Wednesday, 22 June 2016

Earn Leave/অর্জিত ছুটি কিভাবে নির্ণয় করা হয় ??

প্রত্যেক শ্রমিক বাৎসরিক ছুটির হিসেবের ক্ষেত্রে দুটি হিসেব রয়েছে। নিন্মে নিয়ম দুটি আলোচনা করা হল:-
১) একজন শ্রমিকের বাৎসরিক ছুটি ভোগের অধিকার অর্জনের হিসেব:-
যখন একজন শ্রমিক অবিচ্ছিন্নভাবে কোন প্রতিষ্ঠানে এক বৎসর চাকুরি করেন তখন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক উক্ত প্রতিষ্ঠানে বাৎসরিক ছুটি ভোগের অধিকারী হন।
এই এক বৎসর (বার মাস) চাকুরির অবিচ্ছিন্নতা হিসেবের ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক নিন্মলিখিত কারনে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও তার চাকুরির কোন বিচ্ছিন্নতা গঠিবে না অর্থাৎ তিনি অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছেন বলে গন্য হবেন।
(ক) কোন বন্ধের দিন;
(খ) কোন মজুরীসহ ছুটি;
(গ) পীড়া বা দূর্ঘটনার কারণে মজুরীসহ বাদ মজুরী ছাড়া কোন ছুটি;
(ঘ) অনধিক ষোল সপ্তাহ পর্যন্ত প্রসূতি ছুটি;
(ঙ) কোন লে-অফ;
(চ) আইনসম্মত কোন ধর্মঘট বা বে-আইনী কোন লক- আউট;
অর্থাৎ কোন শ্রমিক উপরোল্লিখিত দিনগুলো এবং কাজে উপস্থিতি সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এক বৎসর চাকুরি করলে তিনি অবিচ্ছিন্নভাবে এক বৎসর চাকুরি সম্পূর্ন করেছেন বলে গন্য হবেন এবং তিনি অর্জিত ছুটি ভোগের অধিকারী হবেন।
[তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা- ১১৭ (১),(২) ও (৮)]
২) বাৎসরিক ছুটি ভোগের অধিকারী একজন শ্রমিক পরবর্তী বারো মাস সময়ে পূর্ববর্তী বারো মাসে কাজের জন্য কতদিন ছুটি পাবেন তার হিসেব:-
কোন প্রতিষ্ঠানে একজন শ্রমিক বাৎসরিক ছুটি পাওয়ার অধিকারী হলে তিনি উক্ত ছুটি পরবর্তী বারো মাসে পূর্ববর্তী বারো মাসে কাজের জন্য কতদিন পাবেন, তা উক্ত শ্রমিকের বয়স এবং কর্মরত প্রতিষ্ঠানের ধরনের উপর ভিত্তি করে এর অনুপাত নির্ধারিত হয়।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এ শ্রমিকের বয়সের ভিত্তিতে সকল শ্রমিককে দুই শ্রেনীতে বিন্যাস করেছে। এ দুটি শ্রেনী হল (ক) প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক এবং (খ) অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক।
নিন্মে এই দুই শ্রেনীর শ্রমিকদের বাৎসরিক ছুটির প্রাপ্যতার হার বিন্যাস দেখানো হলঃ
(ক) প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক:
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক বাৎসরিক ছুটি প্রাপ্যর অধিকারী হলে পরবর্তী বারো মাস সময়ে তাহার পূর্ববর্তী বারো মাসের কাজের জন্য মজুরীসহ নিন্মবর্ণিত হারে গণনার ভিত্তিতে ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে।
১) দোকান প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন;
২) বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন;
৩) শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন;
৪) কারখানায় কর্মরত প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন;
৫) সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন;
৬) চা বাগানে কর্মরত প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি বাইশ দিন কাজের জন্য একদিন;
৭) সংবাদপত্রে কর্মরত প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি এগার দিন কাজের জন্য একদিন;
(খ) অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক:
প্রত্যেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক বাৎসরিক ছুটি প্রাপ্যর অধিকারী হলে পরবর্তী বারো মাস সময়ে তাহার পূর্ববর্তী বারো মাসের কাজের জন্য মজুরীসহ নিন্মবর্ণিত হারে গণনার ভিত্তিতে ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে।
১) দোকান প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি চৌদ্দ দিন কাজের জন্য একদিন;
২) বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি চৌদ্দ দিন কাজের জন্য একদিন;
৩) শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি চৌদ্দ দিন কাজের জন্য একদিন;
৪) কারখানায় কর্মরত অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি পনর দিন কাজের জন্য একদিন;
৫) চা বাগানে কর্মরত অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন; মজুরীসহ বাৎসরিক ছুটির পরিমান গণনা সংক্রান্ত;
ব্যাখ্যা: একটি প্রতিষ্ঠানে যখন কোন শ্রমিক মজুরী সহ বাৎসরিক ছুটি প্রাপ্যতার অধিকারী হন, তখন সে শ্রমিক উক্ত প্রতিষ্ঠানে বাস্তবে তার কাজের উপস্থিতির দিনের হারের উপর ভিত্তি করে তার উক্ত বৎসর মজুরী সহ বাৎসরিক ছুটি প্রাপ্যতা নির্ধারন করা হয়।
উদাহরন:
মনে করি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক কারখানায় কর্মরত শ্রমিক পূর্ববর্তী বৎসরের ১২ (বারো) মাসে মোট ৯০ (নব্বই) দিন কাজে উপস্থিত ছিলেন। সে ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক পরবর্তী ১২ (বারো) মাসের জন্য পূর্ববর্তী ১২ (বারো) মাস বা ১ (এক) বৎসরের কাজে উপস্থিতি মোট ৯০ (নব্বই) দিন কে ১৮ (আঠার) দিয়ে ভাগ করে যে কয়দিন হবে, সে কয়দিন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক বাৎসরিক মজুরি সহ ছুটি পাবেন অর্থাৎ ভাগফল অনুসারে এক্ষেত্রে তিনি ৫ দিন মজুরী সহ বাৎসরিক ছুটি পাবেন। এখানে উল্লেখ্য যে শ্রম আইনে বলা আছে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক কারখানা শ্রমিক ১৮ (আঠার) দিন কাজ করলে ১ (এক) দিন মজুরী সহ বাৎসরিক ছুটি প্রাপ্য হবেন। এটি একধরনের প্রেষনা জনিত ছুটি, একজন শ্রমিক বৎসরে যত বেশী দিন কাজে উপস্থিত থাকবেন ততবেশী দিন মজুরী সহ বাৎসরিক ছুটি অর্জনের অধিকারী হবেন।
[তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা- ১১৭ (১) ও (২) এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ এর বিধি- ১০৭ (১)]

Tuesday, 21 June 2016

শ্রম আইনে উল্লেখিত মহার্ঘ ভাতা বলতে আমরা কি বুঝি


শ্রম আইন, মহার্ঘ ভাতার কোন সংজ্ঞা প্রদান করেনি তবে ইহার তত্ব হতে নিস্মলিখিত ভাবে ইহা ব্যাখ্যা করা যায়-
মহার্ঘ ভাতাকে ইংরেজীতে বলা হয় Dearness Allowance. নিয়োগকারী বা মালিক (Employer) কর্তৃক নিয়োগকৃত কর্মচারীদেরকে (Employees) নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির (দ্রব্য + নৃত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম + যাতায়াত ব্যয় ইত্যাদি ব্যায় বৃদ্ধি + মুদ্রস্ফীতি) দাম বেড়ে যাওয়ার সাথে জীবনযাপনে কুলিয়ে ওঠার জন্য যে বিশেষ ভাতা প্রদান করে তা-ই মহার্ঘ ভাতা ।
মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতকরা অংশ, বেতনের সাথে অতিরিক্ত প্রদান করা হয় । যা প্রতি মাসেই দেয়া হয়ে থাকে । যেমন কারও মাসিক বেতন ১০,০০০ টাকা, আর মহার্ঘ ভাতা যদি হয় ৫% তাহলে তার বেতন দাঁড়াবে ১০,৫০০ টাকা । সরকারী বা বেসরকারী উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানে মহার্ঘ ভাতা দেয়া হয়।
তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি সরকারী প্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেশর এর অনুশীরন করা হয়, কারন সরকারী প্রতিষ্ঠানে সমূহে নীতির বাহিরে এসে বাস্তব প্রেক্ষাপট (মুদ্রস্ফিতি) বিবেচনা করে বেতন বা মজুরী বৃদ্ধির প্রক্রিয়া জটিল (বেতন কমিশন বা মজুরি কমিশন গঠন, সুপারিশ প্রনয়ন এবং তা বাস্তবায়ন) এবং সময় সাপেক্ষ বিধায় মুদ্রাস্ফিতি সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় সরকার সরকারি কর্মচারী বা কর্পোরেশনের কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘভাতা ঘোষনা করে।

Monday, 20 June 2016

বাংলাদেশের শ্রম আইনের ইতিবৃত্ত

বাংলাদেশ শ্রম আইনের বিষয়টি যেভাবে আলোচনা হওয়া উচিত সেভাবে কখনোই গুরুত্ব পাইনি। একটি দেশের শ্রম আইন শুধু শ্রমিকের স্বার্থই সংরক্ষণ করে না। তা মালিকের স্বার্থকেও সুরক্ষিত করে কিন্তু দূভার্গজনক হলেও সত্য বাংলাদেশে শ্রম আইন এখনো সাধারণের ধারণার বাইরে রয়ে গেছে এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না। যে কোন আইন প্রণয়নের চেয়ে প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান নিবন্ধে শুধুমাত্র বাংলাদেশ শ্রম আইন প্রণয়নের ইতিহাস নিয়ে তথ্য ভিত্তিক আলোচনা করা হলো। শ্রম আইনের প্রয়োগ ও কার্যকারিতা নিয়ে পরবর্তীতে স্বতন্ত্র কোন নিবন্ধে আলোচনার ইচ্ছা রইল। প্রথমে দেখা যাক শ্রম আইন বলতে কি বুঝায় ?
শ্রম আইন বলতে মূলতঃ ” শিল্পে শান্তি রক্ষার” জন্যে স্বীকৃত যেসব রাষ্ট্রয় বিধি বা প্রথার মাধ্যমে মালিক-শ্রমিক বা শ্রমিক-শ্রমিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে সেগুলোকে বুঝায়। আধুনিক শ্রম আইন রাষ্ট্রীয় আইন সভা কর্তৃক প্রণীত। শ্রম আইন দ্বারা শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরীর হার নির্ধারণ, মজুরী পরিশোধ, কার্যকালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের জখমের জন্যে ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শিল্প বিরোধ উত্থাপন ও নিষ্পত্তি, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও চাকুরীর অবস্থা ও পরিবেশ এবং শিক্ষাধীনতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান শাসন আমলে জারিকৃত শ্রম আইনগুলোকে পর্যালোচনা করে ২৭ টি শ্রম আইন একত্রিত করে বাংলাদেশ শ্রম আইন,২০০৬ নামে একটি শ্রম আইন জারি করা হয়েছে ১১ই অক্টোবর,২০০৬ ইং তারিখ। সর্বশেষ ২০১৩ ইং সালে বাংলাদেশ শ্রম আইনে সংশোধণী আনায়ন করা হয়। যা রানা প্লাজা পরবর্তী ঘটনার প্রেক্ষিতে বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার চাপে পড়ে করা হয়। যদিও তা নিয়েও কোন কোন মহল প্রশ্ন তুলেছে।
বাংলাদেশের শ্রম আইনের উদ্দেশ্য :
 যে কোন শিল্প মূলধন ঘন বা শ্রম ঘন হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রযুক্তিজ্ঞানের দুর্বলতা হউক বা সস্তা শ্রমের আধিক্যে হোক এ দেশের বেশিরভাগ শিল্প শ্রমঘন। তবে শিল্প মূলধনঘন বা শ্রমঘন যাই হোক না কেন, ব্যবসা-বানিজ্য এবং শিল্প ক্ষেত্রে নিয়ামক হচ্ছে উক্ত দু’টি অর্থাৎ পুঁজি এবং শ্রম তেমনি পক্ষও দু’টি মালিক এবং শ্রমিক। ব্যবসা করতে হলে বা শিল্প কারখানা চালাতে হলে এ দুটি পক্ষের একটি ছাড়া অন্যটির কোন অস্তিত্ত্ব কল্পনা করা যায় না। শিল্প ক্ষেত্রে একটি আরেকটির পরিপূরক। কিন্তু সম্পর্ক ঘনিষ্ট হলে কি হবে মালিক শ্রমিক সম্পর্ক সবসময় মধুর থাকে না, দেখা দেয় বিরোধ। মালিকে-শ্রমিকে বিরোধ নতুন নয়, যুগ যুগ ধরেই এ বিরোধ চলে আসছে। স্বার্থের যেখানে দ্বন্দ রয়েছে সেখানে বিরোধ কিছুটা থাকাই স্বাভাবিক। তবে আজকের স্বীকৃত অবস্থা হচ্ছে প্রতিষ্ঠান থাকবে, মালিক  থাকবে, শ্রম থাকবে, শ্রমিক থাকবে। তবে বিরোধ মিটাতে হবে। মিটাতে হবে আইনসঙ্গতভাবে। মালিক-শ্রমিক বিরোধ মিটিয়ে শিল্পে শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে শ্রম আইন হচ্ছে সেতুবন্ধন। বর্তমান যুগে শ্রম আইনের লক্ষ্য হচ্ছে পূঁজি ও শ্রমের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন। এ যুগে শ্রম আইনে পূঁজি বা শ্রম কোনটাকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ শিল্পায়ন হচ্ছে ব্যাপক মাত্রায় কর্মসংস্থান উপায়। আর শিল্পে মালিক-শ্রমিকের স্বার্থ সংরক্ষিত হতে পারে শ্রম আইনের যথার্থ প্রয়োগের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন,২০০৬  কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে :াা্
বাংলাদেশ শ্রম আইন,২০০৬ সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে। বর্তমান শ্রম আইনের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই কোন কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য তা না বলে আইনটি কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় তা বলা হয়েছে। আইনের ১ ধারার (৪) উপ-ধারায় বলা হয়েছে এ আইন নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানসমূহ বা শ্রমিকগণের উপর প্রযোজ্য হবে না, যথাঃ (ক) সরকারের বা সরকারের অধীনস্থ কোন অফিস; সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস; সমরাস্ত্র কারখান , অসুস্থ, অক্ষম, বৃদ্ধ, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী এতিম পরিত্যক্তা মহিলা বা শিশু অথবা বিধবাদের চিকিৎসা, যত্ন বা সেবার জন্য পরিচালিত কিন্ত মুনাফা বা লাভের লক্ষ্যে পরিচালিত নয় এইরুপ কোন প্রতিষ্টান: প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে ইহার প্রয়োজনে স্থাপিত এমন দোকানপাট বা স্টল যাতে শুধু খুচরা বেচা-কেনা চলে; প্রকাশ মেলায় বা বাজারে ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে স্থাপিত এমন দোকনপাট বা স্টল , শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা  গবেষণা প্রতিষ্টান; মুনাফা বা লাভের জন্যে পরিচালিত নয় এমন ছাত্রাবাস বা মেস; দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্রে, সরকারের মালিকানাধীন এবং সরকার কর্তৃক সরাসরিভঅবে পরিচালিত এমন কোন দোকান বা শিল্প বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান যাতে শ্রমিকগণ সরকারী কর্মচারীগণের উপর প্রযোজ্য আচরণ বিধি দ্বারা পরিচালিত হন: এমন কোন শ্রমিক যার নিয়োগ এবং চাকুরির শর্তাবলী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬২,৭৯,১২৩ বা ১৩৩ এর অধীন প্রণীত আইন বা বিধি দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায় প্রয়োগের ক্ষেত্রে নি¤œলিখিত প্রতিষ্টানে নিযুক্ত কোন শ্রমিক এই নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হবেন না, যথা: রেল বিভাগ, ডাক, তার ও টেলিফোন বিভাগ, সড়ক, জনপন বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, বাংলাদেশ সরকারী মুদ্রনালয়, দফা, খ, গ, ঘ , উ, চ, ছ, জ – তে উল্লিখিত কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কোন শ্রমিক, তবে দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত, শিক্ষক ব্যতীত, অন্য কোন শ্রমিক এই নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হবে না; ঠ দ্বাদশ;ত্রয়োদশ এবং চর্তুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে, কোন নাবিক; ড ষোড়শ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে, সমুদ্রগামী জাহাজ; ঢ এমন কোন কৃষি খামার যেখানে সাধারণত দশ জনের কম শ্রমিক কাজ করেন; ণ গৃহ পরিচালক; এবং ত, এমন কোন প্রতিষ্ঠান যা এর মালিক কর্তৃক পরিবারের সদস্যগণের সাহায্যে পরিচালিত হয় এবং যাতে মজুরীর বিনিময়ে কোন শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন না।
রানা প্লাজা ট্রাজেডি বাংলাদেশের শ্রম পরিবেশের  মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে
রানা প্লাজা ট্রাজেডি বাংলাদেশের শ্রম পরিবেশের মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে
বাংলাদেশের শ্রম আইন প্রণয়ণের ইতিবৃত্ত :
১৭৬০ সাল থেকে আরম্ভ হওয়া ইউরোপের শিল্পবিপ্লব আমাদের এ ধারণাই দেয় যে, শিল্পায়নের মাধ্যমে দ্ররিদ্রতা নির্মূল করা সম্ভব। আর সেই শিল্পের প্রয়োজনীয় দুটি উপাদান মূলধন ও শ্রম। উক্ত উপাদান দুটির সহবস্থান নিশ্চিত করার জন্যই মূলতঃ শ্রম আইন। সুতরাং শ্রম আইন বলতে বুঝায় ’শিল্পে শান্তি রক্ষার” জন্যে স্বীকৃত যেসব রাষ্ট্রকর্তৃক প্রণীত বিধি বা প্রথার মাধ্যমে মালিক- শ্রমিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। শ্রম আইন জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত আইন প্রণেতাদের মাধ্যমে তৈরি হয় অর্থাৎ যারা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে আইন সভার সদস্য হয়। বর্তমানের শিল্প কেন্দ্রিক উন্নয়ন ধারণায় অনুযায়ী শ্রম আইনে পুঁজি বা শ্রম কোনটাকেই কোনটার চেয়ে খাটো করে দেখা হয় না। অর্থাৎ এখনকার শ্রম আইনের লক্ষ্য হচ্ছে পুঁজি ও শ্রমের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন। শ্রম আইনের বর্তমান রুপ একটি ধারাবাহিক বিবর্তন প্রক্রিয়ার ফল। আধুনিক আইন ব্যবস্থার মূল হিসেসে যেমন রোমান আইনকে ধরা হয় তেমনি শ্রম আইনের গোড়াপত্তনও হয়েছিল প্রাচীন রোমেই। প্রাচীন রোমেই সর্বপ্রথম কিছু কিছু ব্যক্তি যেমন শিল্পী, চিকিৎসক, পশু পালক এদের মজুরী  নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। এরপর হাজার হাজার বছর ধরে বহু চড়াই-উৎরাই পার হয়ে শ্রম আইন বর্তমান রুপ লাভ করেছে। আধুনিক শ্রম আইনের সূত্রপাত ঘটেছিল ১৮০২ সালে ইংল্যান্ডে। বিভিন্ন কমিশনের তদন্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত এ আইন জারি করা হয়েছিল। কারখানা শ্রমিকদের বিভিন্ন প্রয়োজন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমসাময়িক কালে ইংল্যান্ডে আরো চারটি শ্রম আইন জারি করা হয়েছি। ১৯১৯ সনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আই এল ও গঠন বিশ্বব্যাপী আধুনিক শ্রম আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী  ঘটনা। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার প্রচেষ্টায় শ্রম আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
১৯১৯ সালের ২৯শে অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ১৯২০ সালের ২৭ শে জানুয়ারী পর্যন্ত প্রায় তিন মাস ধরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মধ্যদিয়ে আই এল ও প্রতিষ্ঠত হয়। এর ২৫ বছর পর ১৯৪৪ সনে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অন্তিম লগ্নে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আই এল ও’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনা করে আই এল ও এর মূলনীতি সম্বলিত এক ঘোষণা গৃহীত হয়। এটি ’ফিলাডেলফিয়া ঘোষণা’ নামে খ্যাত। এ ঘোষণা সুষ্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ”মত প্রকাশ ও সংঘঠিত হওয়ার অধিকার নিরবচ্ছিন্ন সমাজ প্রগতির জন্য অপরিহার্য” এবং “যে কোন স্থানের দারিদ্র্যই সব জায়গার সমৃদ্ধির প্রতি হুমকিস্বরুপ”। আই এল ও তার প্রতিষ্ঠা-লগ্ন থেকে বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কিছু ‘শ্রমমান নির্ধারণ করে আসছে এগুলো ‘কনভেনশন’ নামে পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র আই এল ও কর্তৃক নির্ধারিত এসব শ্রমমান অনুসরণ করে সাধারণত: নিজেদের দেশের শ্রম আইন প্রণয়ন করে থাকে। বাংলাদেশ আই এল ও এর সদস্য রাষ্ট্র। এ যাবত বাংলাদেশ ৩৯ টি ‘আই এল ও কনভেনশ’ অনুসমর্থন করেছে।
উপমহাদেশে শিল্প স্থাপিত হয়েছে মূলতঃ দখলদার ইংরেজদের সুবিধার জন্যই। এখানকার সস্তা কাঁচামালকে তারা স্থানীয় সস্তা শ্রম ব্যবহার করে অনেক বেশী মুনাফা অর্জনের জন্যই শিল্প স্থাপন করে। ১৮৫৩ সালে ভারতে স্থাপিত প্রথম শিল্প হচ্ছে গ্রেট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানীর ২০ মাইল রেলপথ। এরপর আসে তুলা, পাট, কয়লাখনি ও চা বাগান।ডি এইচ বুকানন লিখেছেন যে, ইংল্যান্ডের প্রথম দিককার শ্রমিকদের যে অবস্থা ছিল ভারতের শ্রমিকদের অবস্থা তার চাইতেও শোচনীয়। মূলত: বৃটিশ শিল্পপতিদের পাস্পরিক স্বার্থ সংঘাতের কারণেই ভারতে শ্রম আইনের উদ্ভব ও প্রয়োগ ঘটে। যে সকল শিল্প কারখানা ভারতে উৎপাদনরত ছিল তারা সস্তা শ্রম সস্তা সহজলভ্য কাঁচামালের কারণে কম উৎপাদন ব্যয়ের কারণে বাজারে অধিক সুবিধা ভোগ করছি। ফলে তার ভারতে শ্রম আইন প্রয়োগ করে প্রতিযোগিতায় ফিওে আসার প্রক্রিয়া গ্রহণ করে। ১৮৭৬ সালে বৃটিশ তুলাকল মালিকদের একটি দল সেক্রেটারী অব দ্য স্টেটস এর সংগে দেখা করে এই বিষয়টি উপস্থাপন করে। তারই ফলশ্রুতিতে “প্রথম বোম্বে ফ্যাক্টরী কমিশন” নিয়োজিত হয়। বোম্বাই এর সমাজকর্মী শাপুরজী বেংগলী ১৮৭৮ সালে সরকারের কাছে কারখানা আইনের রুপরেখা পেশ করেন।  ফলে  প্রথম ফলপ্রসূ শ্রম আইন “ ভারতীয় কারখানা আইন” জারি হয় ১৮৮১ সালে। মন্দের ভাল হিসাবে বলা যাই এটিই প্রথম ভারতের শ্রম আইন। যদিও এর আগে জরিকৃত শ্রম বিষয়ক আইনগুলোকে শ্রম আইন হিসেবে ধরা যায় না। উদাহরণস্বরুপ ১৮৫৯ সনের শ্রমিকদের চাকুরির চুক্তিভঙ্গ আইনের উল্লেখ করা যায়। এ আইনে মালিকের অত্যাচারে পলাতক-শ্রমিকদেরকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার এবং দৈহিক শাস্তি দেয়ার জন্য মালিকদের ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। সেই যাই হোক, এরপর ইংল্যান্ডের ল্যাংকাশায়ারের কারখানা পরিদর্শক মিয়াডি কিং ১৮৮২ সালে এবং মিস্টার জোনস্ ১৮৮৭ সালে কারখানাসমূহ পরিদর্শন কাজ পরিচালনা করে সরকারকে রিপোর্ট প্রদান করে। এই কার্যক্রম গৃহীত হওয়ার পরবর্তীতে যে আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে তার পুরাধা ছিলেন নারায়ন মেঘাজী লোখান্ডে। বির্তক থাকলেও তিনিই উপমহাদেশের প্রথম শ্রমিক নেতা। তাঁরই নেতৃত্বে ১৮৮৪ সালে বোম্বাইতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকদের এক সভায় সাপ্তাহক ছুটি, মধ্যাহ্ন বিরতিতে বিশ্রাম, কাজের সময়, বেতন প্রদান তারিখ ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা সম্বলিত ৫ দফা দাবী উপস্থাপিত হয়। এই ভূখন্ডে এটাই শ্রমিকদের প্রথম দাবীনামা। ১৮৭৪ সালে কলিকতায় “ভারত শ্রমজীবি” নামক পত্রিকা প্রকাশ করেন শর্শীপদ ব্যানার্জী। কলিকতার ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্টা কওে ১৮৭৮ সালে ওয়াকিং মেসন্স মিশন”। ১৮৯০ সালে লোখান্ডের সভাপতিত্বে প্রতিষ্টিত হয় “ বোম্বে মিল হ্যান্ডস এসোসিয়েশন” এটাকেই ভারতের প্রথম ট্রেড ইউনিয়ন বলা যায়। যদিও এর কোন সংবিধান ও সদস্যপদ ছিল না। এ সময়ে কাজ বন্ধ বা ধর্মঘটেরও উদ্ভব হয়। ১৮২৭ সালে কলিকতার পাল্কী বেহারাদের ধর্মঘট ভারতের প্রথম শ্রমিক ধর্মঘট।১৯১৮ সালের ২৮ শে এপ্রিল বি.পি. দয়াদিয়ার নেতৃত্বে যথার্থ ট্রেড ইউনিয়ন “মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন” আত্নপ্রকাশ করে। এরপরই আসে “ আহমেদাবাদ লেবার এসোসিয়েশন” যার প্রতিষ্টাতা ছিলেনমহাত্না গান্ধী। ১৯২০ সালে গঠিত হয় অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস। লালা লজপত রায় ছিলেন সভাপতি। মতিলাল নেহেরু, এ্যানি বেসান্ত প্রমুখ এতে সক্রিয় ছিলেন। শিল্পে অসন্তোষকে কেন্দ্র কওে ১৯২১ সালে বেংগল কমিটি এবং ১৯২২ সালে বোম্বে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমিটি গঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা প্রতিষ্ঠার পর বিশ্বব্যাপী  শ্রম আইনের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। বৃটিশ-ভারতও আই এল ও এর সদস্য ছিল। ১৯১৯ সালে কাজের ঘন্টা (শিল্প) কনভেনশন (কনভেনশন নং ১) গৃহীত হওয়ার পর ১৯২২ সালে ভারতীয় কারখানা আইন সংশোধন করা হয়। ১৯২৩ সালের ট্রেড ইউনিয়ন আইন এবং প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদ নির্ধারণ করে ১৯২৯ সালে শ্রম বিরোধ আইন জারি করা হয় এবং যেখানে প্রথম শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের বিধান করা হয়। ১৯২৯ সালে তৎকালীন ভারত স¤্রাট শ্রম বিষয়ক সমস্যাসমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্তপূর্বক শ্রম  আইনের উন্নয়নের লক্ষ্যে রয়েল কমিশন নামে খ্যাত একটি কমিশন গঠন করেন। শ্রম আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি মাইল ফলক। কমিশন রিপোর্ট পেশ করে ১৯৩০ সালে । কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বিভিন্ন আইন সংশোধন করা হয় এবং উক্ত সুপারিশ অনুযায়ী শ্রম বিরোধ আইন স্থায়ী আইনে পরিণত হয়। পিতা-মাতা কর্তৃক শিশুদের শ্রম বন্ধক দেয়ার প্রথা রোধ করার উদ্দেশ্যে ১৯৩৩ সালে শিশু (শ্রম বন্ধকী) আইন প্রণয়ন করা হয়। মহাজনের কবল থেকে শ্রমিকদের রক্ষা করার জন্য ১৯৩৪ সালে শ্রমিকদের রক্ষাকরণ আইনজারি করা হয়। ডক শ্রমিকদের চাকরি সংক্রান্ত ডক শ্রমিক আইন জারি হয় ১৯৩৪ সালে । শিল্প প্রতিষ্টানের শ্রমিকদের মজুরী পরিশোধ নিয়ন্ত্রণের জন্য মজুরী পরিশোধ আইন জারি হয় ১৯৩৬ সালে । শিশু শ্রমিকদের নিয়োগ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে শিশু শ্রমিক নিয়োগ আইন প্রণীত হয় ১৯৩৮ সালে । একই সনে দুর্ঘটনায় আহত  শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্যে দায়েরকৃত মামলায় কতিপয় প্রশ্ন উত্থাপন করা বারিত করে মালিকদের দায়িত্ব আইনজারি হয়। এদিকে ১৯৩৫ সালের ভারত সরকার আইন পাস হওয়ার পর ১৯৩৭ সাল থেকে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন প্রদেশসমূহ কমিটি নিয়োগ করে পুঁজি ও শ্রমের সমন্বয় সাধনের জন্য বেশ কিছু শ্রম আইন জারি করে। তৎকালীন বেঙ্গল গভর্ণমেন্ট কর্তৃক জারিকৃত মহিলা শ্রমিকদের মাতৃকল্যাণ সুবিধা সংক্রান্ত ১৯৩৯ সালের মাতৃকল্যাণ আইন কারখানা নয় এমন সব দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদেও ছুটি, কাজের সময়, মজুরী ইত্যাদি সংক্রান্ত ১৯৪০ সালের বঙ্গীয় দোকান
বাংলাদেশের শ্রম আইনের আরো সংশোধনের জন্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্টের চাপ রয়েছে।
বাংলাদেশের শ্রম আইনের আরো সংশোধনের জন্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্টের চাপ রয়েছে।
ও প্রতিষ্ঠান আইন,১৯৪২ সালের সাপ্তাহিক ছুটি আইন অন্যতম। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও দামামা বেজে উঠে। শ্রম আইনের ক্ষেত্রেও এ সময়ে কিছুটা স্থবিরতা পরিলক্ষিত হয়। বৃটিশ শাসনামলের শেষের দিকে শিল্প বিরোধ সম্পর্কে অনুসন্ধান এবং বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে ১৯২৯ সালের শ্রম বিরোধ আইন বাতিল করে তদস্থলে শিল্প সম্পর্ক বিষয়ক একটি যথার্থ আইন ১৯৪৭ সালের শিল্প বিরোধ আইন জারি করা হয়।
১৯৪৭ সালের পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পর বৃটিশ-ভারতে জারিকৃত শ্রম আইনগুলো চালু রাখা হয়। ১৯৩৯ সালের বঙ্গীয় মাতৃকল্যাণ আইনের আলোকে চা বাগান শ্রমিকদের জন্য ১৯৫০ সালের জারি হয় মাতৃকল্যাণ (চা বাগান) আইন নামে একটি বিশেষ মাতৃকল্যাণ আইন জারি করা হয়। ১৯৪০ সালের বঙ্গীয় দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইন বাতিল করে তদস্থলে জারি করা হয় ১৯৫১ সালের পূর্ববঙ্গ দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইন। ১৯৫২ সালের জারি করা হয় নিয়োগ (চাকুরীর রেকর্ড) আইন এ আইনে বাধ্যতামূলকভাবে কতিপয় শ্রেণীর চাকুরীতে নিযুক্ত ব্যক্তিদের চাকুরির রেকর্ড সংরক্ষণের বিধান করা হয়। এ আইনে কর্মচারীর ‘সার্ভিস বুক’ রাখার বিধান করা হয়। এরপর শিল্প সংস্থায় নিযুক্ত শ্রমিকদের নি¤œতম মজুরীর হার নিয়ন্ত্রণের বিধান করে ১৯৫৭ সালে নি¤œতম মজুরী আইন জারি করা হয়। পরে এ আইনটি বাতিল করে পুনরায় ১৯৬১ সালে নতুন করে জারি করা হয় নি¤œতম মজুরী অধ্যাদেম,১৯৬১। চা বাগান কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ তহবিল স্থাপনের উদ্দেশ্যে বাগান কর্মচারী ভবিষ্যৎ তহবিল অধ্যাদেশ জারি করা হয় ১৯৫৯ সালে। একই বছর শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে জারি করা হয় ১৯৫৯ শিল্প বিরোধ অধ্যাদেশ। ১৯৬০ সালের দুটি শ্রম আইন জারি করা হয়। কর্মরত সাংবাদিকদের চাকুরির শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয় ১৯৬০ সালের বার্তাজীবী (চাকুরির শর্তাবলী) অধ্যাদেশ। শিল্প এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের চাকুরির শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে শিল্প ও বাণিজ্যিক নিয়োগ (স্থায়ী আদেশ) অধ্যাদেশ জারি করা হয় ১৯৬০ সালে। সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের কাজের ঘন্টা এবং চাকুরির অন্যান্য শর্তাবলী নিয়ন্ত্রনের জন্য ১৯৬১ সালে সড়ক পরিবহন শ্রমিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ১৯৫০ সালের শিক্ষানবিশি আইন বাতিল করে ১৯৬২ সালের শিক্ষানবিশি অধ্যাদেশ এবং চা বাগানসমূহের শ্রমিকদের কল্যাণ এবং কাজের শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে ১৯৬০ সালের চা বাগান শ্রমিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
শ্রম আইন একটি দেশের শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
শ্রম আইন একটি দেশের শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১৯৬৫ সাল শ্রম আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য এবং গুরুত্বপূণ বছর বলা হয়ে থাকে। এ বছরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণীত হয়েছিল। এ বছরে ১৯৩৪ সালের কারখানা আইন বাতিল করে জারি করা হয় ১৯৬৫ সালের কারখানা আইন ১৯৫১সালের পূর্ববঙ্গ দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইন বাতিল করে তদস্থলে প্রণীত হয় ১৯৬৫ সালের দোকান ও প্রতিষ্ঠান  আইন এবং ১৯৬০ সালের শিল্প ও বাণিজ্যিক নিয়োগ ( স্থায়ী আদেশ) অধ্যাদেশ বাতিল করে তদস্থলে প্রণীত হয় ১৯৬৫ সালের শ্রমিক নিয়োগ (স্থায়ী আদেশ) আইন। এ ছাড়াও এ বছর শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকুরি সংক্রান্ত তথ্যাদি সংগ্রহ, সরবরাহ, চাকরি নিয়ন্ত্রণ ও বন্টনের জন্য ১৯৬৫ সালের চাকরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এ বছরেই ১৯৫৯ সালের শিল্প বিরোধ অধ্যাদেশ বাতিল করে জারি করা হয় ১৯৬৫ সালের শ্রম বিরোধ আইন। এ ছাড়াও ১৯২৬ সালের ট্রেড ইউনিয়ন আইন বাতিল করে তদস্থলে প্রণয়ন করা হয় ১৯৬৫ সালের ট্রেড ইউনিয়ন আইন। একটি বিশেষ কল্যাণমূলক আইন কোম্পানীর মুনাফা (শ্রমিকদের অংশগ্রহণ) আইন, ১৯৬৮ জারি হয় ১৯৬৮ সালে। এতে কোম্পানীসমূহের মুনাফা শ্রমিকদের অংশগ্রহণের বিধান করা হয়। যা নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যমূলক পদক্ষেপ ছিল।
শ্রম আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বছর ১৯৬৯ সাল। ১৯৬৫ সালে ট্রেড ইউনিয়ন আইন এবং ১৯৬৫ সালের শ্রম বিরোধ আইন দু’টো বাতিল কওে দিয়ে এ বছরে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আইন ১৯৬৯ শিল্প সম্পর্ক অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
১৯৭১ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রক্তাক্ত মুক্তিযোদ্ধের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়ার পর উপরোক্ত প্রায় সব ক’টি শ্রম আইনই বহাল রাখা হয়। এরপর তেমন কোন নতুন আইন প্রণীত না হলেও প্রচলিত শ্রম আইনগুলো বিভিন্ন আইন ও অধ্যাদেশের মাধ্যমে বহুবার সংশোধন করা হয়েছে। প্রণীত উল্লেখযোগ্য শ্রম আইনসমূহের মধ্যে রয়েছে ১৯৭৪ সালের সংবাদপত্র কর্মচারী (চাকুরির শর্তাবলী) আইন এবং ১৯৮৪ সালের কৃষি শ্রমিক (নিম্নতম মজুরী) অধ্যাদেশ। কৃষি শ্রমিক নিম্নতম মজুরী অধ্যাদেশে সর্বপ্রথম কৃষিকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন মজুরী নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং কার্যকরীকরণের ভার দেয়া হয় গ্রাম আদালতের উপর।
বৃটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় পর্যন্ত শ্রম আইনগুলো জারি হয়েছিল বিচ্ছিন্নভাবে। যা ঔপনিবেশিক শাসনের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। যেখানে স্বভাবতই ঔপনিবেশিক শাসকদের মানসিকতাই প্রতিফলিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ঐ সকল আইন কোন সময় সাময়িক চাহিদা পূরণ, কোন সময় রাজনৈতিক কারণসহ বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়েছিল। যদিও এর প্রয়োগিক দিকটি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে একটা আইনের সঙ্গে অন্যটার সংঘাত বা প্রয়োগিক জটিলতা দেখা প্রায়শ: দেখা যায়।ফলশ্রুতিতে শ্রম আইনের বিভিন্ন প্রয়োগিক ক্রটি এবং জটিলতা দূর পূর্বক আইনগুলোকে আরো সরলীকরণের মাধ্যমে একটি একক লেবার কোড প্রণয়নের দাবি উঠে। বাংলাদেশ সরকার  ১৯৯২সালে হাইকোর্টের  অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি জনাব মোঃ আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর নেতৃত্বে “জাতীয় শ্রম আইন কমিশন, ১৯৯২ ” নামে একটি শ্রম আইন কমিশন গঠন  করে। কমিশনের সুপারিশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১১ই অক্টোবর,২০০৬ ইং তারিখে বর্তমান শ্রম আইনটি প্রণীত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে এর সর্বশেষ সংশোধনী আনায়ন করা হয়। যেহেতু বাংলাদেশের স্বাধীনতা গণপ্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা তাই শ্রম আইনও তার প্রতিফলন প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু তা বিলম্বে হলেও কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে একথা বলা যায়।
বাংলাদেশ শ্রম আইন,২০০৬ এ সর্বমোট ২১ টি অধ্যায় রয়েছে  এবং প্রতিটি অধ্যায়ে বিন্যাস্ত ভাবে শ্রমিকদের বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে । যেখানে শ্রমিকদের বিভিন্ন অধিকারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার দিকটিও বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। যদিও এর যথার্থ বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো বেশ চ্যালেঞ্জিং হিসেবে রয়ে গেছে একথা বলা যায়। বাংলাদেশ শ্রম আইন,২০০৬   ফিলিপাইন এর শ্রম আইনকে অনুসরণ করেই প্রণীত হয়েছে। এই আইনে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা হয়েছে আমাদের দেশীয় প্রেক্ষিতে। যদিও আন্তজার্তিক বিভিন্ন সংস্থা শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের স্বাধীনতাসহ বেশ কিছু বিষয়ে  শ্রম আইনের ব্যাপকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেছে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন,২০০৬ বিশেষ আইন হিসাবে চিহ্নিত। সাধারণ ন্যায় বিচার ও সামাজিক শৃংখলা প্রতিষ্টার জন্য বিভিন্ন সামাজিক আইন দেশে প্রচলিত আছে। শ্রমিক শ্রেণীর অনেক বিষয় সাধারণ আইনের আওতায় ফেলা সম্ভব। এমনকি নাগরিক হিসাবে শ্রমিক অন্যান্য আইনের আওতায় নাগরিক সুবিধা, বিচার পাওয়ার অধিকার ভোগ করতে পারলেও চাকুরী ও কর্মক্ষেত্রে সংঘটিত বিষয়ে সব সময় সাধারণ আইনের ঊর্ধ্বে বিশেষ আইনকে স্থান দেয়ার বিধান প্রচলিত আছে। এতে সহজেই শ্রম আইনের গুরুত্ব অনুমেয়। শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার বঞ্চিত করে একটি দেশ কখনোই অগ্রগতি লাভ করতে পারে না। কারণ তারই দেশের উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখে তাদের শ্রমের বিনিময়ে। বিনিয়োগকারী যা প্রত্যক্ষ সুফলভোগী। সুতরাং তাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এবং শ্রমিকদের মালিকের ক্ষতি না করে নিজের অধিকারকে সম্মত করতে পারে তাহলেই একটি দেশের শিল্পায়ন বিকশিত হতে পারে। নিশ্চিত করা সম্ভব হবে সমাজ প্রগতি।

Thursday, 16 June 2016

বিভিন্ন অাইন ও নীতিমালা ডাউনলোড করুন | Download Different Law, Rule & Policy

Bangladesh Fatal Accident Act 1855

আপনাদের কি জানা আছে বাংলাদেশে ১৮৫৫ সালে একটা মারাক্তক দুর্ঘটনা আইন আছে যে আইনে আওতায় যদি সরকার কোন দুর্ঘটনাকে মারাক্তক হিসাবে ঘোষনা করেন তবে ক্ষতিপূরনের পরিমান হবে;
দুর্ঘটনায় আহত বা মৃত ব্যক্তি বাঁচিয়া থাকিলে যে পরিমান অর্থ উপার্জন করিতে পারিতেন তাহার সমান।
তাই আপনারা লক্ষ্য করবেন যে রানা প্লাজা দুর্ঘটনাকে সরকার মারাক্তক হিসাবে ঘোষনা করেননি।

Is group life insurance mandatory?

According to section 99 of Bangladesh Labor Code 2006, Group Insurance (Life) is compulsory in the establishments wherein minimum 200 permanent workers are employed.

Is profit bonus mandatory?

According to section 232 of Bangladesh Labor Code 2006, to avail Workers Participation in Companies Profits, the following Conditions must be fulfilled by any establishment - (a) the number of workers employed by the company in any shift at any time during a year is one hundred or more; (b) the paid-up capital of the company as on the last day of its accounting year is one crore taka or more; (c) the value of the fixed assets of the company at cost as on the last day of the accounting year is not less than two crore taka or more.

Advice for increment with inflation rate:

Increment especially ‘adjustment with Inflation rate of the Central Bank of State” is the discretionary matter for the management but good practice indeed. In the present context, most of the well being Organization try to implement this practice. A compliant organization always thinks about the welfare of its employees to lead standard life which to be adjusted with the inflation of money.

What should be the minimum % of housing in gross salary?

There is no specific rate of House Allowance in the existing laws of Bangladesh. With the Reference of Bangladesh Income Tax Ordinance 1984 (Rules 33A), 50% of the Basic Salary can be considered as House Rent. On the other hand, Minimum wages in Ready Made Garments Sector, Government advice to keep provision as 40% of basic salary as a “House Rent".

Is PF & Gratuity mandatory?

Regarding Provident Fund (PF), according to section 264 of BLA, 2006, a provident fund established for the benefit of its workers, if three-fourths of the total number of workers employed in it so that demand to the employer by an application in writing.
It is opined that, PF is not mandatory but depend on the employees demand and discretion of the management. Regarding Gratuity- ‘Gratuity’ means wages payable on termination of employment of a worker which shall be equivalent to not less than thirty days’ wages for every completed year of service or for any part thereof in excess of six months. So, it is mandatory.

Is yearly increment mandatory?

According to Bangladesh Labor Act 2006, there is no prescribed increment rate for employee. But Minimum wages in Ready Made Garments sector, Government advice to provide minimum 5% increment on basic salary

Is festival bonus Mandatory?

According to Bangladesh Labor Rules 2015, Festival Bonus is mandatory which was not mandatory in Bangladesh Labor Act (BLA)2006. There has been a provision for two yearly bonuses for the workers as full basic.

একজন শ্রমিক মজুরী না নিয়ে গেলে সেই মজুরীর টাকার কি হবে?

এটা ভাবার কারন নাই যে মালিক নিজে টাকা হজম বা গায়েব করে দিবেন। বাংলাদেশ শ্রম আইনের ধারা ১৩১ এর ১ অনুযায়ী যখন শ্রমিকে খুজে পাওয়া যাবে না,তখন তার কোন মনোনীত ব্যক্তিকে মজুরীর টাকা প্রদান করতে হবে।
যদি মনোনীত ব্যক্তিকে না পাওয়া যায় তবে আপনি টাকা নিয়ে চোখ বন্ধ করে সোজা শ্রম আদালতে জমা প্রদান করে দিবেন এবং এখানেই আপনার দায়িত্ব ১০০ ভাগ শেষ।

বেতন গননার সময় এক মাস কতদিনে গননা করা হয়

আমি যে বিষয় নিয়ে লিখছি সেটা নিয়ে অনেকের মধ্যে মত দৈততা আছে, তবে আমি এই লেখার মাধ্যমে সটা দূর করার চেষ্টা করব।
আমাকে যদি আপনি বলেন কতদিনে এক মাস হিসাব করা হবে আমি বলে দিব ২৬ দিনে।
আমি জানি আপনি প্রমান চাইবেন প্রমান আমি screen shot এ দিয়ে দিলাম যখানে সরকার ২০১৩ সালে গ্যজেটে বলে দিয়েছে যে এক মাস কত দিনে গননা করতে হবে।


হেল্প লাইন:


শ্রমিক/শ্রমিকগণ যেন তাদের অভিযোগ জানাতে পারে এজন্য এ অধিদপ্তর ১৫ মার্চ, ২০১৫ থেকে একটি টোল ফ্রি হেল্প লাইন চালু করেছে যার নম্বর হলো ০৮০০-৪৪৫৫০০০। এ হেল্প লাইনের মাধ্যমে শ্রমিকগণ শ্রম আইন বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

দোষ শিকার করার পরেও কেন তদন্ত ছাড়া শাস্তি দেয়া যাবে না

মানব সম্পদ বিভাগের অনেক মহান কর্মীরা আছেন যারা কারন দর্শানোর নোটিশের জবাবে দোষ শিকার করে নিলে কর্মীকে সরাসরি শাস্তি প্রদান করেন।কিন্তু বাস্তব কথা হল যে এটা করা যাবে না কারন বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২৪ ধারার যে প্রসেস আছে তা ১০০ ভাগ অনুসরন করতে হবে যা ধারা ২৪ এর প্রথম লাইন ভাল করে পড়লে বুঝতে পারবেন। তাহলে কি করতে হবে সোকজ নোটিশের জবাবে দোষ স্বীকার করে নিলে আপনি তাকে জানাবেন যে আপনার জবাব সন্তোষজনক নয়। অতএব,ন্যায় বিচারের জন্য জনাব ক ও খ কে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হল ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি জানি অনেকে আমার মতামতকে গ্রহন করবেন না, তাদেরকে বলছি যে দয়া করিয়া সঠিকভাবে করেন যাতে মালিক এবং আপনি দুজনেই নিরাপদ থাকবেন।

কোন কর্মী কি তদন্ত কমিটিতে তার সহায়তার জন্য আইনজীবিকে নিয়ে আসতে পারবে কি না

আমি নিশ্চিত যে ৯৯.৯৯% বলবেন যে পারবে না কিন্তু আসল কথা হল পারবে।
কিভাবে এবং কোন ধারা বলে পারবে এটা হল প্রশ্ন।
পারবেন ধারা ২৪(৪) অনুযায়ী, এবার আসেন ধারাটাতে কি লেখা আছে
"২৪(৪) কোন তদন্তে অভিযুক্ত শ্রমিককে, তাহার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত (কোন ব্যক্তি সাহায্য করিতে পারিবেন) এবং (কোন তদন্তে অভিযুক্ত শ্রমিককে)তৎকতৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি সাহায্য করিতে পারিবেন।
আপনারা লক্ষ্য করেন যে আমি ধারা ২৪(৪) কে একটু আলাদাভাবে লিখেছি আমার ব্যাখ্যা করার সুবিধার জন্য। যারা সাধারনভাবে ধারাটি পড়বেন তারা লক্ষ্য করেন।
এই ধারাতে " এবং " একটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ধারা ২৪(৪) এ দুটি বাক্য আছে যা "এবং" দিয়ে কৌশালে বলা হয়েছে যাতে আম জনতা বুঝতে না পারে। আমি যেভাবে লিখেছি আশা করি আপনারা বুঝতে পারবেন।
এছাড়াও কতজন লোককে কর্মী নিয়ে আসতে পারবে তদন্ত কমিটিতে সেটার কোন সংখ্যা বলা নাই তাই যত ইচ্ছা তত।
অনেকে এই লেখা পাড়ার পরে তদন্ত কমিটির সদস্যের সাথে সাহায্যকারীকে মিলাবেন না যেন কারন দুটি দুই জিনিস।
আর যারা English এর Compound Sentence এবং বাংলায় মিশ্র বাক্য ভাল ভাবে জানেন তারা "এবং" এর ব্যবহারটা ভাল ভাবে বুঝতে পারবেন।

NGO এবং University গুলোর জন্য শ্রম আইন প্রযোজ্য কি না

ধারা ২(৩১) এ বলা আছে প্রতিষ্ঠান অর্থ "বাড়ি ঘর বা আঙ্গিনা যেখানে কোন শিল্প পরিচালনার জন্য শ্রমিক নিয়োগ করা হয়"।
এবার একজন বলে শিক্ষাতো শিল্প না।আমি শুনে হাসি দিয়ে বলি জি ভাই, "তবে"
ধারা ২(৬০) অনুযায়ী
শিল্প অর্থ যে কোন ব্যবসা,বানিজ্য,উৎপাদন,বৃত্তি,পেশা,চাকুরী বা নিয়োগ।

:কোন উৎসব ছুটির মধ্যে কোন সাপ্তাহিক ছুটি পরলে তা উৎসব ছুটি হিসাবে বিবেচিত হবে কি না

উত্তরটা হল না যারা ১১দিন উৎসব ছুটিকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে উৎসব ছুটি হিসাবে দিতে চেষ্টা করছেন তাদেরকে বলছি যে এটা করা থেকে বিরত থাকুন কারন বাংলাদেশ সরকারের সার্ভিস রুলের কোন কিছুই আপনার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

যদি কোন নারী কর্মী মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে অফিসে যোগদান না করেন তবে কি করবেন

যদি কোন নারী কর্মী প্রথমে ৩-৪ দিনের মধ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হবার পরে কাজে যোগদান না করেন, তবে প্রথমে তাকে একটা চিঠি দিবেন "কাজে যোগদান" বিষয়ে। এই পএে শুধু উল্লেখ করবেন যে আপনার গত এত তারিখ হতে আপনার মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়া পরে কাজে যোগদান করার কথা ছিল কিন্ত আপনি অদ্য এত তারিখ পর্যন্ত অনুপস্থিত আছেন। আপনি আগামী ৪ বা ৫ দিনের মধ্যে চাকুরীতে যোগদান করবেন অন্যথায় আপনার দীর্ঘ অনুমোদিত অনুপস্থিতির জন্য পরর্বতী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এই পএ প্রদানের ঠিক ৪ বা ৫ দিন পর থেকে ১০ দিন অনুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকলে উক্ত নারী কর্মীকে ২৭(৩)(ক) অনুযায়ী চাকুরী থেকে অব্যাহতি প্রদান করলে তা বৈধ হবে।
অনেকে জানতে চাইবেন যে কেন আগে একটা চিঠি দিতে হবে। এর কারন যদি কোন কর্মী ছুটিতে গিয়ে পরে সে ছুটি বর্ধিত করতে চায় তবে সে ধারা ১০ অনুযায়ী আগাম দরখাস্ত করবেন।
এখন ওই কর্মী এমন কোন দরখাস্ত করেন নাই তারপরে সে কোর্টে দাড়িয়ে তোতা পাখির মত বলবে যে আমি দরখাস্ত দিছি কিন্ত আমার দরখাস্ত লুকিয়ে নাটক বানিয়ে আমাকে বের করছে তখন আপনি পুরাই বাটে। তাই আপনি ২৭(৩)(ক) অনুযায়ী চিঠি দেয়ার আগে যদি তাকে ডাকেন তবে আপনি কোর্টে দাড়িয়ে ময়না পাখির মত বলতে পারবেন,যে আমি তার কাছ থেকে কোন সারা না পেয়ে তাকে কাজে যোগদানের জন্য ডেকেছি এই যে চিঠি এবং রেজিস্টার ডাক মাসুল। এই বার আপনার পৌষ মাস আর কর্মীর সর্বনাশ।

শিশু কে

★ বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ১৪ বছর পূর্ন করেননি এমন কোন ব্যক্তি।
★ বাংলাদেশ শিশু আইন অনুযায়ী ১৮ পূর্ন করেননি এমন কোন ব্যক্তি।
★ বাংলাদেশ শিশু ও নারী নির্যাতন আইন অনুযায়ী ১৬ পূর্ন করেননি এমন কোন ব্যক্তি।

শিক্ষানবিস কাল

শিক্ষানবিস কাল নিয়ে সবার মাঝে ব্যাপক ভুল ধারনা আছে যেমন অনেকে প্রথমে শিক্ষানবিস কাল হিসাবে ৬ মাস দেয়ার পারে সেটা আবার ৩ মাস বৃদ্ধি করেন ইত্যাদি ইত্যাদি।
আসলে কি বলা আছে আইনে
কেরানি ধরনের কাজ যারা করেন তাদের শিক্ষানবিসকাল হবে ৬ মাস। এবার কেরানি নিয়ে আলোচনা করা যাক যে কেরানি কে?
আমরা যারা টেবিলে বসে কাজ করি তাদের কাজেকে কেরানির কাজ বলে। আমার একটা সাধারন উদাহরণ দিয়ে বলার চেষ্টা করলাম এটার আরও অনেক বিষয় আছে কিন্ত তা নিয়ে আলোচনা করলে বিষয়টা জটিল হয়ে যাবে।
যাই হোক, যেকোন কেরানি ধরনের কাজের জন্য শিক্ষানবিস কাল ৬ মাস এবং ইহা কোন অবস্থায় এই ধরনের কর্মীর শিক্ষানবিস কাল আর বৃদ্ধি করা যাবে না।
কেরানি ধরনের কর্মী ব্যতীত অন্য সকল কর্মীদের শিক্ষানবিস কাল হবে ৩ মাস এবং যদি নিয়োগকারী কর্মী অদক্ষ হয় তার শিক্ষানবিস কাল আর বৃদ্ধি করা যাবে না। কিন্ত যদি নিয়োগকারী কর্মীর নিয়োগপএে উল্লেখিত কাজে যদি পূর্ব এক্সপিরিয়েন্স থাকে তবে শিক্ষানবিস কাল ৩ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৬ মাস করা যাবে কিন্ত ৬ মাসকে কোন ভাবে ৯ মাস করা যাবে না।
অনেকে এই ভুলটি করেন যে শিক্ষানবিস কাল ৬ মাস থেকে ৯ মাস করে থাকেন। কিন্ত আপনি যেকোন ধরনের কর্মীই নিয়োগ করেন না কেন, কোন অবস্থাতেই শিক্ষানবিস কাল ৬ মাসের বেশি হবে না।
৬ মাসে মধ্যে যদি কর্মীর কাজের মান ভাল না হয় তবে আপনি তাকে শুভ বিদায় দিয়ে দিতে পারেন কিন্ত ৬ মাসের পরে একদিন বেশি হলেও সে স্থায়ী কর্মী হিসাবে বিবেচিত হবে আইন অনুযায়ী তাকে আপনি স্থায়ীকরন পএ দেন বা না দেন তাতে কিছু আসে যায় না।

প্রতিষ্ঠানে কর্মরতথাকালীন সময়ে মালিক কতৃক অসৎ আচারনের শিকার হলে কি করবেন

বাংলাদেশে ২০১৫ সালের পূর্বে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে কোন অসৎ আচারনের শিকার হলে তার প্রতিকারের জন্য কোন সু্যোগ ছিল না, কিন্তু ২০১৫ সালে পাস হওয়া বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালার বিধি ৩৬৬ এর মাধ্যমে কোন কর্মী তার গ্রিভেন্স বা অনুযোগ শ্রম পরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট পেশ করতে পারিবেন এবং তা পেশ করার ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত শ্রম কর্মকর্তাগন নিষ্পত্তি করিবেন।

মাতৃত্বকালিন ছুটি শুরুর সময়

একজন অন্তঃসত্তা নারী কর্মী যে দিন মৌখিক বা লিখিতভাবে মালিকে নোটিশ দিবেন যে পরর্বতী ৮ সপ্তাহের মধ্যে তার সন্তান প্রসাবের সম্ভাবনা আছে, ঠিক এইরুপ কোন নোটিশ প্রাপ্তির পরে দিন থেকে মালিক তাকে কাজে অনুপস্থিত থাকিবার জন্য অনুমতি দিবেন। 



বরখাস্তকৃত কর্মীর ক্ষতিপূরণ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০১৩ এর সংশোধনী অনুযায়ী কোন বরখাস্তকৃত কর্মী কোন ক্ষতিপূরণ পাবেন না কারন খুবই হাস্যকর। আর সেটা হল কম্পিউটার অপারেটরের ভুল কারন ২০১৩ সালের সংশোধনীর সময় অপসারিত ও বরখাস্তকৃত এর পরির্বতে তিনি শুধু মাএ অপসারিত শব্দটি লেখেন এবং যার ফলে ২০১৩ সালের পর থেকে কোন কর্মী বরখাস্তকৃত হলে তিনি বাংলাদেশ শ্রম আইনের ধারা ২৩(৩) অনুযায়ী আর কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ পাইবার অধিকারী হইবেন না।


ঈদ বোনাস

ঈদ বোনাস নিয়ে সকল মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকদের মাথা ব্যথা শুরু।আর মালিক যদি একটু এদিক সেদিক হয় তবে আর কথাই নাই।
যাই হোক না কেন,ঈদ বোনাস ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এর আগে কোন আইনে বোনাস বাধ্যতামূলক ছিল না কিন্ত ২০১৫ সালের শ্রম বিধিমালার বিধি ১১১(৫) অনুযায়ী দুটি বোনাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে;
কে ঈদ বোনাস পাবে?
ঈদ বোনাস পাবে সেই সকল কর্মীগন যার চাকুরীর বয়স ১ বছর পূর্ন হয়েছে।
কত টাকা দিতে হবে ঈদ বোনাস হিসাবে?
আইন অনুযায়ী মূল মজুরীর বেশি দেয়া যাবে না, তবে কম চাইলে মালিক দিতে পারবেন।

চাকরি বদলাবেন কখন?

আমাদের মধ্যে মাত্র কেউ-কেউ ভাগ্যবান৷ কারণ, তাঁরা ঠিকঠাক সংস্থায় চাকরি করেন৷ ঠিকঠাক সংস্থায় অর্থাত্, কঠোর পরিশ্রম, পজিটিভ চেষ্টা এবং কাজের সুস্থ পরিবেশ তাঁদের কর্মজীবনে উন্নতির সহায়ক৷ দ্রুত তাঁরা উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে অনেক উপরে উঠে পড়তে পারেন এই সব সংস্থায়৷ আর বাকিরা? তাঁরা এমন সংস্থায় চাকরি করেন যেখানে হাজার পরিশ্রম সত্ত্বেও মাত্র একটি বা দু'টি ধাপ উঠতে পারেন৷ এ-রকম যাঁদের অবস্থা তাঁরা কিন্ত্ত ধরেই নিতে পারেন তাঁদের কেরিয়ার এক 'ডেড এন্ড'-এ এসে পৌঁছে গিয়েছে খুব দ্রুত তাঁদের কর্মস্থল পরিবর্তন জরুরি৷
ঠিক এই ভাবনাই আজকের দ্রুত-গতির নতুন প্রজন্মকে সব সময় তাড়িয়ে বেড়ায়৷ এবং এই কারণেই তাঁরা নিত্য-নতুন কর্মস্থল বদল করতে থাকেন৷ একবারও ভেবে দেখেন না নদীর ওপারে কি সত্যিই তৃণভূমি এপার থেকে অনেক বেশি সবুজ? এটা কিন্ত্ত আগে দেখে নেওয়া প্রয়োজন৷ তাহলে প্রশ্ন হল, অপেক্ষা করতে-করতে যদি সময় পেরিয়ে যায়? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর যেমন নেই, তেমনই উত্তর নেই সেই প্রশ্নের যেটা হল, চাকরি পরিবর্তনের সত্যিই কোনও নির্দিষ্ট সময় রয়েছে?
তবে, বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি ইঙ্গিত উল্লেখ করেছেন, যার যদি ইতিবাচক হয়, তাহলে আপনি চাকরি পরিবর্তন করতেই পারেন৷
১) বর্তমান কর্মস্থলে আপনি কি সুখী? আপনার কি সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হয়, 'আবার সেই কাজের জায়গায় যেতে হবে?' প্রতিটি চাকরিই কিন্ত্ত ক্লান্তিকর, কিন্ত্ত কোনও কর্মক্ষেত্রে কাজ করাটাই যদি বিরক্তি এবং ক্লান্তিকর মনে হয়, তাহলে বুঝবেন এই কর্মস্থল পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে৷
২) আপনার কর্মস্থলটি আপনার বেশ মনের মতো৷ কিন্ত্ত আপনি রোজ টের পাচ্ছেন এই কর্মস্থলটি কিন্ত্ত একটি ডুবন্ত জাহাজ৷ ভেসে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্ত্ত সম্ভব নয়৷ এ-রকম অবস্থায় সংস্থাটি সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়ার আগেই কর্মস্থল পরিবর্তন করুন৷
৩) আপনার বয়স কম৷ আপনি পরিশ্রমী৷ কিন্ত্ত, আপনি নতুন কিছু আর শিখবেন না৷ রোজ এক কাজ করে যেতে হচ্ছে, যেন কোনও অ্যাসেম্বলি লাইনের একটা অংশ আপনি৷ যদি নতুন কিছু শিখতে না পারেন, যদি থিতু হয়ে পড়েন-তখন চাকরি ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার পরিকল্পনা নিতেই পরেন৷
৪) অন্য সংস্থায় থাকা আপনার বন্ধুরা তেমন উন্নতি না হলেও, আপনার চেয়ে অনেক রেশি রোজগার করছেন৷ অথচ, আপনার রোজগার প্রায় কিছুই বাড়ছে না এবং পাশাপাশি উন্নতিও তেমন বলবার মতো কিছুই হচ্ছে না৷ পরিস্থিতি এরকম হলে সেটা চাকরি বদলের পক্ষে অনুকূল৷
৫) আপনি কাজে চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন৷ কিন্ত্ত আপনি লক্ষ্য করছেন যে, যে-কাজ আপনি করছেন, তাতে বিন্দুমাত্র কোনও চ্যালেঞ্জ নেই, কোনও নতুনত্ব নেই৷ তাহলে অচিরেই আপনি 'বোরড' হয়ে পড়বেন৷ গতানুগতিক, নিস্তরঙ্গ কর্মপরিবেশ আপনাকে ক্লান্ত করে তুলবে৷ সম্ভব হলে দ্রুত চাকরি-স্থল পরিবর্তন করুন৷
৬) যখন কাজে ঢুকেছিলেন তখন মনে হয়েছিল এই কাজের জায়গাটা যেন স্বর্গের মতো৷ আপনার বস, আপনার সহকর্মী সবাই যেন আদর্শ৷ কিন্ত্ত কয়েক বছর পর এখন মনে হচ্ছে বস থেকে শুরু করে সহকর্মীরা প্রত্যেকেই যেন ভিনগ্রহের মানুষ৷ এদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হয়ে উঠছে৷ কখনও-কখনও আপনার মনে হচ্ছে এঁরা প্রত্যেকেই আপনাকে অকর্মণ্য প্রমাণ করার জন্যে উঠে-পড়ে লেগেছে৷ এক্ষুনি চাকরি বদল করুন৷
৭) আপনি নিশ্চিত জানেন আপনার বিশেষ একটি কর্মদক্ষতা আছে, যা আপনার সংস্থায় প্রায় কারও নেই৷ এই দক্ষতার কথা আপনার সুপারভাইজার বা বস জানেন৷ কিন্ত্ত, আপনার সেই দক্ষতার এতটুকু কাজে লাগানোর কোনও ইচ্ছেই আপনার সংস্থার নেই, বরং আপনাকে সেই এক থোড়-বড়ি-খাড়া করে যেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত৷ এতে আপনার সংস্থার কতটুকু ক্ষতি হচ্ছে আপনি জানেন না, কিন্ত্ত আপনি বেশ বুঝতে পারছেন অনুশীলনের অভাবে এতে আপনার স্কিল বা দক্ষতায় মরচে পড়ে যাচ্ছে৷ এমতাবস্থায় চাকরি বদল করার কথা ভেবে দেখতে পারেন৷
কিন্ত্ত চাকরি ছাড়ার ব্যাপারে আজকের প্রজন্মের প্রবণতাই হোল, একের পর এক চাকরি ধরা আর ছাড়া৷ একে বলে 'ক্রনিক শিফটিং'৷ এর ফলে আপনার কেরিয়ার রেকর্ডে কিন্ত্ত একটি গোপন লাল কালির দাগ পড়ে যেতে পারে৷ নতুন কর্ম-সংস্থার কর্তারা ভাবতেই পারেন সুযোগ পেলে কালকেই আপনি অন্য চাকরিতে চলে যাবেন৷ তাই এ-ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামত হল, খুব সম্প্রতি যদি আপনি আগের চাকরি ছেড়ে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে থাকেন, তবে অন্তত বছর দুয়েক থাকুন এই কর্মস্থলে, চাকরির বদল ঘটান তার পরে৷
পুরনো কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ার আগে একটা দ্বিধা এসে আক্রান্ত করে৷ সেটা হোল, চাকরি ছাড়া উচিত হচ্ছে কিনা! এই যাব কি যাব না দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার পিছনে কাজ করে অনেকগুলি ফ্যাক্টর৷ নতুন কাজের জায়গাটা সত্যিই কি বর্তমান জায়গার থেকে ভালো? টাকা-পয়সা কম পেলেও এই জায়গার বস এবং সহকর্মীরা অত্যন্ত ভালো৷ এঁরা নিশ্চয়ই আহত হবেন যদি আপনি চাকরি ছেড়ে চলে যান৷ এই ভাবনায় আপনি আক্রান্ত হন৷ এরকম সময়ে নিজের হূদয়কে জিজ্ঞেস করুন এবং যে উত্তরটা পাবেন সেই মতোই কাজ করুন৷ তবে, নতুন সংস্থায় যাওয়ার আগে সেই সংস্থা সম্পর্কে সমস্ত খুঁটিনাটি জেনে, সিনিয়রদের সঙ্গে মত বিনিময় করে তবেই বর্তমান কর্মস্থল ছাড়ার কথা ভাববেন৷

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র সংগ্রহ প্রদ্ধতি জানেন কি?

বর্তমানে সারাবিশ্বে পরিবেশ সংরক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচেছ। আর পরিবেশ রক্ষা করে শিল্প কারখানা স্থাপন করার উপরও বাড়ছে গুরুত্ব। এজন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে নিতে হবে ছাড়পত্র। চলুন তাহলে জানি কিভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়া যাবে সে সম্পর্কে।
বাংলাদেশে যে কোন স্থানে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হবে। এর জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। ইন্সপেক্টর কর্তৃক ইন্সপেকশনের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়া যায়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-
১. নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র
২. ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি রিপোর্ট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
৩. বর্জ্য নির্গমন ও পরিশোধন ব্যবস্থার নকশা
৪. লে-আউট প্ল্যান (বর্জ্য পরিশোধনাগারের অবস্থান নির্দেশিত দাগ, খতিয়ান উল্লেখপূর্বক মৌজাম্যাপ)।
৫. উৎপাদন প্রক্রিয়ার ফ্লো-ডায়াগ্রাম
৬. আইইই (Initial Environmental Examination) রিপোর্ট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
৭. ইআইএ ( Environment Impact Assessment) রিপোর্ট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
৮. ইএমপি ( Environmental Management Plan) রিপোর্ট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
৯. রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ/চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ/খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ/ রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ/ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
১০. ট্রেজারী চালানের কপি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেতে হলে নিম্নরূপ হারে ফি দিতে হবেঃ
বিনিয়োগ (টাকা) ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ফি (টাকা) নবায়ন ফি (টাকা)
১ – ৫ লক্ষ ১,৫০০ ৩৭৫
৫ – ১০ লক্ষ ৩,০০০ ৭৫০
১০ – ৫০ লক্ষ ৫,০০০ ১,২৫০
৫০ লক্ষ – ১ কোটি ১০,০০০ ২,৫০০
১ – ২০ কোটি ২৫,০০০ ৬,২৫০
২০-৫০ কোটি ৫০,০০০ ১২,৫০০
৫০ কোটির অধিক ১,০০,০০০ ২৫,০০০

REQUIMENTS OF HANDRAILS

BNBC-2012:
PART-4, CHAPTER-3- MEANS OF EGRESS---HANDRAILS:
3.10.4 Handrails height on stair shall be not less than 860mm (33.86 inch) and not more than 960mm (37.80 inch) above the surface of the tread (footstep/a person’s manner of walking), measured vertically from the top of the rail to the outer edge of the tread. Peripheral diameter of Circular cross section of a handrail shall not be less than 32mm (1.26 inch) and not more than 50mm (1.97 inch). Any other shape with perimeter dimension of not less than 102mm (4.016 inch), but not more than 159mm (6.26 inch) and with the largest cross-sectional dimension not more than 57mm (2.24 inch) shall be permitted provided that all edges are rounded
3.10.8 Stairways shall have continuous guards on both side along the direction of travel and a continuous handrail shall be provided with inner edge guard. A stair of width more than 1118 mm but not more than 2236 mm shall have guards and handrails on both of the edges. Inner edge handrails shall be continuous and outer edge handrails shall be along the flights extended up to one tread depth on both the landings. A stair the width exceeds 2236 mm; intermediate handrails shall be installed with similar length of outer edge handrail. Single traffic lane shall be calculated 559 mm in the stairway and two traffic lanes shall be 1118 mm. Widths of stairs shall be multiple of two traffic lane other than width specified in the Table 4.3.6.
ALLIANCE AND ACCORD—HANDRAILS:
6.9.2.4 Handrails. Handrails shall be provided on both sides of each stairway. Intermediate handrails shall be provided when the stair width exceeds 2.2 m (87 in.).
6.9.2.5 Guards. Guards shall be provided in stairs in accordance with 6.12.2.
6.9.3 Signs.
6.9.3.1 Stair designation signs shall be provided at each floor entrance from the stair to the floor in English and Bengali. Signs shall indicate the name of the stair and the floor level. Signs shall be posted adjacent to the door.
6.12 Handrails and Guards.
6.12.1 Handrails.
6.12.1.1 New handrails shall have a minimum height of 865 mm (34 in.) and a maximum height of 965 mm (38 in.) as measured from the leading edge of the tread.
6.12.1.2 Existing handrails that are less than 760 mm (30 in.) or greater than 1100 mm (44 in.) as measured from the leading edge of the tread, shall be replaced with handrails meeting the requirements of 6.12.1.1.
6.12.2 Guards. Guards shall be provided at all open sides of means of egress that exceed 760 mm (30 in.) above the floor or finished ground below.
6.12.2.1 New guards shall have a minimum height of 1067 mm (42 in.).
6.12.2.2 Existing guards shall have a minimum height of 760 mm (30 in.).
6.12.2.3 Open guards shall have intermediate rails or pattern such that a sphere 200 mm (8 in.) in diameter cannot pass through any opening up to a height of 865 mm (34 in.).
6.12.2.4 Roofs. All occupiable roofs shall be provided with parapets or guards with a minimum height of 1067mm (42 in.).
NFPA 101 (LIFE SAFETY CODE):
7.2.2.4 Guards and Handrails.
7.2.2.4.1 Handrails.
7.2.2.4.1.1 Stairs and ramps shall have handrails on both sides, unless otherwise permitted in 7.2.2.4.1.5 or 7.2.2.4.1.6.
7.2.2.4.1.2 In addition to the handrails required at the sides of stairs by 7.2.2.4.1.1, the following provisions shall apply:
(1) For new stairs exceeding 6 ft 3 in. (1905 mm) in width, handrails shall be provided within 30 in. (760 mm) of all portions of the required egress width.
(2) For existing stairs, handrails shall be provided within 44 in. (1120 mm) of all portions of the required egress width.
7.2.2.4.1.3 Where new intermediate handrails are provided in accordance with 7.2.2.4.1.2, the minimum clear width between handrails shall be 20 in. (510 mm).
7.2.2.4.1.41:* The required egress width shall be provided along the natural path of travel.
7.2.2.4.1.5 If a single step or a ramp is part of a curb that separates a sidewalk from a vehicular way, it shall not be required to have a handrail.
More details from LIFE SAFETY CODE (NFPA 101) will be discussed on training session.
FACTORY RULES 1979
ধারা-৫১ এর উপবিধি ৫ দ্রষ্টব্য
বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৬
ধারা-৫৪ এর উপবিধি ৪ ও ৫ দ্রষ্টব্য

আপনিই কেন চাকরিটি পাবেন?

‘স্যার, আমাকে একটি চাকরি দিন। আমি যে কোনো কাজ করতে পারব।’ আমি জানি অনেকেই এভাবে উত্তর করেন। ভালো সিভি না থাকার কারণে প্রথমত অনেকে ইন্টারভিউ কল পান না। বহুদিন পর যদি কোনো একটা কল পান তখন আর মাথায় কাজ করে না। ইন্টারভিউ বোর্ডে যখন জিজ্ঞেস করা হয় অন্যদের না নিয়ে কেন আপনাকে নেয়া উচিত তখন প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে অনেকেই ইমোশনাল হয়ে পড়েন।

‘স্যার, আমার বাবা দোকানে কাজ করেন। অনেক কষ্ট করে আমাদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন। এখন স্যার একটা চাকরি আমার খুব দরকার। চাকরিটা না হলে স্যার বোনের বিয়ে দিতে পারছি না।’ এরকম উত্তরও খুব কমন। পারিবারিক দুর্বলতা প্রকাশ করে কিছু একটা ঘটানোর বৃথাচেষ্টা।

‘স্যার, আমি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। আমি স্যার কষ্ট করতে পারব। আমি স্যার খুব বিশ্বস্ত ও কর্মঠ। আমি খুব যত্ন সহকারে আপনার কাজ করব’, এরকম উত্তরও বেশ কমন।

‘স্যার, এখন যেখানে আছি, মালিক অনেক খারাপ ব্যবহার করে। আমার বিশ্বাস স্যার আপনারা ভালো হবেন।’ অনেকে এটাও বলেন জানি। আমার নিজেরই খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি, মানুষ কত অসহায়ের মতো একটি চাকরি খুঁজছে। আমি জানি আপনারা অনেকেই আসলে জানেন না যে কিভাবে নিজেকে যোগ্য হিসেবে তুলে ধরবেন। অন্যদের চেয়ে কেন আপনি সেরা প্রমাণ করবেন কিভাবে? চলুন, আজকের ষষ্ঠ পর্বের এই লেখায় আপনাদের সেটাই জানাব। আবেদন করার সময় দুটি বিষয়ের প্রতি নজর দিবেন।

১। প্রতি ক্ষেত্রে আবেদন করার সময় কোথায় কোন পদের জন্য আবেদন করছেন ভালো করে দেখে নিন। কাজের বৃত্তান্ত না পড়ে আবেদন করবেন না। এতে হয় আপনার সিভি রিজেক্ট হবে নয়তো আপনি ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে ধরা খেয়ে যাবেন। লক্ষ্য করুন, কাজ জানা লোক কোম্পানিটি খুঁজছে, আপনি সেগুলো জানেন তো? জানা থাকলেই আবেদন করুন।

২। আবেদন করার পর অনেকেই কোথায় আবেদন করেছিলেন মনে রাখেন না। পরে যখন ইন্টারভিউর জন্য ডাকা হয় তখন তারা যে কি কি কাজের কথা বলেছিল মনে করতে পারেন না। খুব কমন সমস্যা এটি। প্রত্যেকটি আবেদনের পর পুরা সার্কুলারটি কেটে রাখুন। অনলাইনের ক্ষেত্রে সেভ করে রাখুন কম্পিউটারে।

এবার চলুন, সহজ একটি উদাহরণ দেই। আপনি আর আমি, দুইজন কুস্তি লাগলে কে জিতবে? সহজ উত্তর যার শক্তি বেশি সে। প্লিজ আবার পড়ুন, যার শক্তি বেশি সে। পার্থক্যটা হচ্ছে কিসে? শক্তিতে। তার মানে হল শক্তি নির্ধারণ করবে আমি জিতব নাকি আপনি জিতবেন। শক্তি আসবে কোথা থেকে? পুষ্টিকর খাবার থেকে। তাই না? অর্থাৎ আপনার লেখাপড়া, কো-কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিজ আপনাকে যতটুকু পুষ্টি জুগিয়েছে, সেটা দিয়েই আপনাকে প্রমাণ করতে হবে আপনার শক্তি বেশি, মেধা বেশি, তাই আপনিই সেরা, তাই নয় কি? এখানে আবেগের কোনো স্থান নেই।

অনেকেরই চোখে পড়েছে হয়তো এমন বিজ্ঞাপন, ‘এসএসসি পাস করা একজন হিসাব জানা, সৎ ও উদ্যমী সেলসম্যান চাই’ এই পদের জন্য যোগ্যতা বিচার করা হবে কিসের ভিত্তিতে বলুন তো? ১। হিসাব জানা ২। সততা ও ৩। উদ্যম

আপনি না হয় হিসাব জানেন, যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, ভগ্নাংশ ও কিছু টুকিটাকি পাটিগণিত আপনি জানেন। কিন্তু সবাই তো বলবে আমি সৎ ও উদ্যমী, সবার মধ্যে আপনিই যে সেই সেরা ক্যান্ডিডেট সেটা প্রমাণ করবেন কিভাবে? উদাহরণ দেই, আমরা যখন নটরডেম কলেজে পড়তাম, আমাদের সুশান্ত স্যার একদিন ফিজিক্সে ১৬০ জনের ক্লাসে ১০ জনের যোগে ইচ্ছা করে ভুল করে বেশি নম্বর দিয়ে আমাদের খাতা দেখতে দিয়েছিলেন। ১০ জনের মধ্যে ৩ জন তাদের যোগে ভুল হয়েছিল স্বীকার করে, স্যার তাদের সততার জন্য তাদের সেই নম্বরই দিয়ে দেন। এরকম কোনো একটি ঘটনা নিজের সম্পর্কে বলুন। যে ঘটনার নায়ক ছিলেন আপনি। আপনি কিছু একটা করেছেন যেটা আপনার সততা প্রমাণ করে। আমি সৎ, আমি সৎ, আমি সৎ, তিনবার বললেই তো রিক্রুইটার কবুল বলে আপনাকে মেনে নিবে না। আরও যে ১০ জন ইন্টারভিউ দিতে এসেছে তারা হয়তো গুছিয়ে বলতেই পারল না। আপনি যেহেতু পারলেন তার মানে আপনিই সেরা।

একজন ড্রাইভার যখন নিয়োগ দেয়া হয় ভেবে দেখুন তো কি কি জিনিসের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়? ১। তার লাইসেন্স আছে কি না, ২। গাড়ি সম্পর্কে তার জ্ঞান আছে কি না। ৩। সে রাস্তার ট্রাফিক রুল জানে কি না ৪। তার চোখের জ্যোতি ঠিক আছে কি না ৫। তার ব্যবহার ভালো কি না। ৬। তার কোনো বাজে অভ্যাস আছে কি না।

কাউকে ছোট করতে উদাহরণটা দেইনি। উদাহরণটা দিয়েছি আপনাদের বোঝাতে। যে কোনো পদে কাজ করার জন্য কিছু জ্ঞানের দরকার, স্কিল দরকার। আপনার কি সেগুলো আছে? থাকলে শুধু সেগুলো ধরে কথা বলুন, ‘স্যার, আমার লাইসেন্স আছে, এই হচ্ছে তার কপি। আমি একটি গ্যারেজে কাজ করেছি। রিপেয়ার ও মেইনটেনেন্সের কাজ আমি জানি। আমি এক বছর গাড়ি চালিয়েছি, ট্রাফিক নিয়ম আমার জানা। আমার চোখে কোনো সমস্যা নেই। আমি স্যার টুকটাক ইংরেজিও জানি ও বুঝি। এজন্যই আমি আমাকেই সেরা ক্যান্ডিডেট বলে মনে করছি।’

ধরুন আপনি একটি কোম্পানিতে বিক্রয় প্রতিনিধি পদের জন্য আবেদন করেছেন। ভেবে দেখুন তো, একজন বিক্রয় প্রতিনিধির কি কি গুণ থাকা দরকার? ১। পড়াশোনা (হয়তো বিবিএ অথবা এমবিএ), ২। প্রোডাক্ট নলেজ ৩। বিক্রয় করতে পারার যোগ্যতা ৪। মানুষের সঙ্গে মেশা, টিমে কাজ করা ৫। কোনো ক্ষেত্রে বাইক চালাতে পারা ৬। ভ্রমণে পারদর্শিতা ৭। মার্কেট রিসার্চ করতে জানা ৮। ব্রান্ডিং ও প্রমশনাল কাজ জানা ৯। রিপোর্ট তৈরি করা ১০। এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্টের কাজ জানা। এই তো, তাই না? আপনাকেই কেন নিবে তাহলে কিভাবে উত্তর করবেন?

ধরুন আপনি ফ্রেশার। আপনার উত্তরটি হতে পারে এরকম, ‘স্যার, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ের উপর বিবিএ করেছি। আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি ‘কর্পোরেট আস্ক’ নামক একটি ট্রেনিং ফার্মের ক্যাম্পাস ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলাম। কেন প্রত্যেকেরই ছাত্রাবস্থা থেকে ট্রেনিং করা দরকার সেটা সবাইকে বুঝাতাম। তাদের একটি ইভেন্টও অ্যারেঞ্জ করেছিলাম আমাদের ক্যাম্পাসে। আমি ভার্সিটির টুরিস্ট ক্লাবের মেম্বার। আমি প্রায় ৩০টি জেলা ঘুরেছি। আমি বাইক চালাতে পারি ও আমার লাইসেন্স আছে। আমি ওয়ার্ড ও এক্সেলের কাজ জানি। পড়াশোনার সময় প্রায় ৪০০ রিপোর্ট করতে হয়েছে চার বছরে। বিজনেস রিসার্চ যখন আমরা পড়ি, তখন আমরা রিসার্চের কাজও করেছিলাম। আমার এক্সেলের ওপর ট্রেনিং ও বিশেষ দক্ষতা আছে। আমি ড্যাশবোর্ড বানাতে পারি। এই পদের জন্য যতগুলো কাজ জানা দরকার তার সবগুলোই আমি জানি। তাই আমি আমাকেই এই পদের জন্য যোগ্য মনে করছি।’

চাকরির আবেদনের সময় সার্কুলার কেটে রাখতে বলেছি এই জন্য যাতে কথা বলার সময় ঠিক তাদের দরকার অনুযায়ী কথা বলতে পারেন। অনেক সময় আবেদনের দুই মাস পর কল আসে, সেক্ষেত্রে যেন ভুলে না যান কিছু।

টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্টে যারা আবেদন করছেন, তারা কিভাবে উত্তর দিবেন? সার্কুলারটা পড়ুন, কি কি চাচ্ছে? ইলেকট্রিক্যাল সার্কুলারের ক্ষেত্রে হয়তো ইলেকট্রিক ডিভাইস, মেকানিক্যালের ক্ষেত্রে হয়তো মেশিন, পাম্প, কম্প্রেশার, কম্পিউটারের ক্ষেত্রে প্রোগ্রাম ও সফটওয়্যার সম্পর্কে আইডিয়া আছে এরকম লোক খুঁজছে কোম্পানি। আরও হয়তো চাইছে, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্টে কাজ জানা লোক। আপনি কি সেগুলো জানেন? আপনি সেগুলোর রিলেটেড কি কি কাজ জানেন? কবে কবে কি কি করেছেন? ভাবুন। উত্তর দিতে পারবেন এবার?

ধরুন, একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কোনো একটি কোম্পানিতে আবেদন করেছে সেফটি অফিসার পদের জন্য। কেন আপনাকে নিব? উত্তর হতে পারে, ‘স্যার, চার বছরের পড়াশোনার মধ্যে অনেক ধরনের মেশিনের সঙ্গে আমি পরিচিত হয়েছি। আমাদের স্যাররা যখনই আমাদের কোনো মেশিনের সঙ্গে পরিচিত করাতের তখনই আমাদের জানিয়ে দিতেন সেগুলোর সেফটি ফিচারগুলো। আমি পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট সম্পর্কে জানি। আমি আইএসও-এর ওপর তিন দিনের কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলাম। আমি বিভিন্ন টেস্টিং সম্পর্কে জানি। তাছাড়া মেশিন কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কেও আমার ধারণা আছে। আপনাদের ফ্যাক্টরিতে যেহেতু বয়লার, পাম্প, কম্প্রেশার ইত্যাদি আছে এবং আমি যেহেতু এগুলোর বেসিকটা খুব ভালো জানি তাই আমি নিজেকে এই পদের উপযুক্ত বলে মনে করছি।’ (উত্তরটি আরও বিশদভাবে দেয়া ভালো)

এবার আসি যারা ট্রাক চেঞ্জ করবেন ভাবছেন তাদের প্রসঙ্গে। যেমন ধরুন, আপনি সাপ্লাই চেইনে কাজ করছেন, কিন্তু ভালো লাগে না। আসতে চান মানবসম্পদ বিভাগে। সেসব ক্ষেত্রে কোম্পানি কেন আপনাকে নিবে এই প্রশ্নের উত্তর করবেন কিভাবে? সার্কুলারটি পড়ুন। কি কি কাজ জানা লোক তারা চেয়েছে? তার মধ্যে কি কি কাজ মিলছে? কি কি কাজ মিলছে না? মার্ক করুন। যেগুলো মিলছে না সেগুলো কিভাবে মিলাবেন ভাবুন। সাপ্লাই চেইন মানে কি? একটা রেস্টুরেন্টের উদাহরণ দেই। রেস্টুরেন্টে কি হয়? বাজার থেকে মাছ, মাংস, সবজি কিনে আনে। নিজস্ব নিয়মে রান্না হয়। কাস্টমার আসে। অর্ডার করে খায়। সিম্পল। তার মানে হচ্ছে, কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে পণ্য তৈরি করে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া পুরাটাই সাপ্লাই চেইন, তাই না? তো আপনি এখন সেরকমই একটি কাজ করছেন। আপনি নিজেই ভেবে দেখুন আপনি কত লোকের সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলছেন, প্রোডাক্ট, চালান, বিল, গুদাম, স্টক কত কিছু করছেন। প্রত্যেকটা কাজই কি মানুষের সঙ্গে মিশে করছেন না। এখন হয়তো প্রোডাক্টের স্টক মিলান। মানবসম্পদ বিভাগে এলে হয়তো পে-রোল মিলাতে হবে, পেটি ক্যাশ সামলাতে হবে। এখন হয়তো সাপ্লাইয়ার, বায়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। মানবসম্পদ বিভাগে এলে হয়তো আপনাকে মালিক-শ্রমিক ব্যাল্যান্স করে চলতে হবে। সুতরাং, আপনি কিন্তু পারেন। আপনি কিন্তু সবই জানেন, করেছেন। কাজের ফিরিস্তি ধরেই বলা সম্ভব যে কেন আপনি সেরা, কেন আপনাকে নেয়া উচিত।

‘কেন আপনাকে নিতে হবে?’ খুব ট্রিকি প্রশ্ন। অনেকেই বাদ যায় এই প্রশ্নের উত্তর করতে না পারার জন্য। বেশ কিছু উদাহরণ দিয়েছি। সবার লাইফের সঙ্গে মিল করে তো আর এই ছোট্ট লেখায় তুলে ধরা সম্ভব না। তবুও যাদের এই প্রশ্নটির উত্তর করতে সমস্যা হয় আমাকে ইমেইল করবেন। প্রত্যেককে সহযোগিতা করতে চেষ্টা করব।

কোনো জড়তা নয়, কোনো অনুনয় বিনয় নয়। কাজ চাই না। কাজ জানি, কাজ পারি, তাই আমি আত্মবিশ্বাসী, তাই আমিই সেরা। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ লেখা পড়ার জন্য।

ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে নার্ভাসনেস

ইন্টারভিউ দিতে গেলে অনেকেরই শুরু হয়ে যায় হাত-পা কাঁপাকাঁপি, ভয়ে বুক কাঁপে অনেকের। এটা কিভাবে ঠিক করা যায়? অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন। আরে ভাই, আপনি ভয় পাবেন কেন? যে আপনার ইন্টারভিউ নিচ্ছে সেও তো চাকরিজীবী। ভয় তো সে পাবে। সঠিক লোক নিতে না পারলে তারও তো চাকরিতে টান পড়বে। তাই, ইন্টারভিউতে টেনশন করবে রিক্রুইটার, আপনি না। তবুও আমরা নার্ভাস হই, টেনশন করি। প্রথমেই আসুন জেনে নেই নার্ভাস হওয়ার কারণগুলো কী কী?

১। ভালো সিভি না থাকার জন্য অনেকে তিন চার মাসেও একটি কল পান না। যখন কল পান, তখন নার্ভাস হয়ে পড়েন। ইমোশনালও হয়ে যান অনেকে।

২। চাকরিটি না হলে কি যে হবে, এই চিন্তা অনেকেরই কাজ করে। কারও পারিবারিক, কারও প্রণয়ঘটিত, এক এক জনের এক এক টেনশন।

৩। কথা বাংলায় বলতে হবে নাকি ইংরেজিতে এটা নিয়ে অনেকে নার্ভাস থাকেন।

৪। রেজাল্ট তো আমার ভালো না, আমার তো চাকরিতে গ্যাপ আছে, আমি তো সেক্টর চেঞ্জ করছি, এগুলো নিয়ে যদি কিছু জিজ্ঞেস করে কি যে বলব।

৫। যে যে কাজের কথা বিজ্ঞপ্তিতে লেখা আছে তার কোনো একটি হয়তো জানেন না যা কি-না আপনাকে নার্ভাস করে তোলে। টেকনিক্যাল প্রশ্ন কি হতে পারে তা নিয়েও অনেকে টেনশন করেন।

৬। যারা চাকরি করেন, হয়তো ডিউটি আওয়ারে কাজ ফাঁকি দিয়ে আসেন। বস ফোন দেয় কি-না, ক্লাইন্ট মেইলের উত্তর না পেয়ে হার্টফেইল করে কি না, সেই চিন্তায় আপনার হার্ট এদিকে লাফালাফি শুরু করে দেয়।

৭। ইন্টারভিউ দিতে অপেক্ষমানরত অবস্থায় ফেসবুকিং বা অফিসে কথা বললে টেনশন বাড়ে।

৮। আমার তো অত্র কোম্পানিতে পরিচিত কেউ নেই, আমার কি চাকরি হবে? এটা নিয়ে অনেকে ভাবেন।

৯। কোনো প্রশ্নের উত্তর না জানলে, তার জন্য টেনশন বাড়ে। রিক্রুইটারের সঙ্গে তর্ক করতে গেলে টেনশন বাড়ে।

১০। ইন্টারভিউ দিতে যে যাচ্ছেন, সেটা কেউ জেনে গেল কি না সেটা একটা কারণ। ট্রাফিক সমস্যার কারণে ইন্টারভিউ দিতে দেরি হলে টেনশন বাড়ে, ঘাম হয়।

এতসব কারণের মধ্যে আপনি ভুলেই যান আপনি যে একটি ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন। কি নেই, কি হবে, এই চিন্তা মস্তিষ্ককে গ্রাস করে। ফলে আপনি আপনার কি আছে, কি লক্ষ্য সেসব চিন্তা থেকে সরে যান। আপনার চিন্তা ভিন্নদিকে ধাবিত হয়। এর ফলে আপনার চাকরি হয় না, হতাশা বাড়ে। সেই হতাশা আরও টেনশন বাড়ায়, যেটা আপনাকে দীর্ঘ সময় বেকার রাখে। আপনি এসেছেন ইন্টারভিউ দিতে, কিন্তু মন আপনার অন্যদিকে। সব নেগেটিভ চিন্তা যখন আপনার মাথায় আসে, টেনশন তো হবেই। এখন কী কী করা যেতে পারে এই টেনশন দূর করতে সমস্যা অনুযায়ী সমাধানগুলো পর্যায়ক্রমে দেয়া হল-

১। দৃষ্টিনন্দন সিভি তৈরি করুন। সিভি, লিঙ্কডইন আপডেট রাখুন। সঠিকভাবে আবেদন করুন। ভালো সিভি থাকলে আপনি বেশ ঘন ঘন ইন্টারভিউ কল পাবেন। তখন নিজেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হবে। টেনশন কাজ করবে না। অর্ধেক টেনশন আপনার এখানেই শেষ।

২। আপনি একটি ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন। চাকরিটি হওয়ার জন্য এরা যেমন লোক খুঁজছে, নিজেকে তেমন লোক হিসেবে তাদের সামনে প্রমাণ করতে হবে। তারপর আপনার চাকরি হবে। এতে পরিবার ও প্রণয়ঘটিত ব্যাপারের সমাধান হবে। পরীক্ষায় ফেল করলে কি হবে, সেটা কি পরীক্ষার হলে বসে ভাবলে হবে? যে কাজে এসেছেন সেটা ভালোভাবে করুন। ইন্টারভিউর দিকে ফোকাস করুন। অন্য চিন্তা নয়।

৩। মনে রাখবেন, বাংলায় প্রশ্ন করলে বাংলায় উত্তর দিতে হয়। বাংলায় প্রশ্ন করলে ইংরেজিতে উত্তর করা বেয়াদবি। ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে ইংরেজিতে উত্তর দেবেন। যদি মনে করেন, আপনার ইংরেজি অত ভালো না, সেক্ষেত্রে রিক্রুইটারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বাংলায় কথা বলবেন। টেনশন কমে যাবে। ভুল ইংরেজি বলবেন না। যা যা প্রশ্ন করে সাবলীল উত্তর দিবেন।

৪। আপনারা যারা রেজাল্ট, গ্যাপ, সেক্টর চেঞ্জ ইত্যাদি নিয়ে টেনশন করেন, তাদের বলছি। ভাই, এসব কিন্তু আপনার সিভিতে ছিল। তবুও আপনাকে ডাকা হয়েছে। তার মানে, এসব বিষয় জেনেই তো আপনাকে ইন্টারভিউর জন্য ডাকা হয়েছে, তাই না? এগুলো নিয়ে তাদের যদি টেনশন থাকত, তাহলে তো তারা আপনাকে ডাকতোই না ইন্টারভিউর জন্য। যখন আপনাকে ডেকেই ফেলেছে, তখন আর আপনার এসব নিয়ে টেনশন কিসের? এখন শুধু সিভিতে যা লিখেছেন, সেগুলো ডিফেন্স দিবেন।

৫। বিজ্ঞপ্তিতে ১০টি কাজ বলা আছে। আপনি ২টি পারেন না। আপনি ৮টি কাজ পারেন, এই মনবল দিয়ে কি ২টি কাজ না পারার টেনশন দূর করা যায় না? যা জানেন সেটা ফোকাস করুন। যে দুইটি কাজ জানেন না, ওগুলো জয়েনের পর এক মাসেই শিখা হয়ে যাবে। নয়তো ট্রেনিং করে শিখে নিবেন। মনে রাখবেন, ৮০ পেলেও লেটার, ১০০ পেলেও লেটার। যাদের একটু দুর্বলতা আছে, তারা বারবার কমন ইন্টারভিউ প্রশ্নের উত্তরগুলো পড়ুন।

৬। টেনশনের ৫টি স্তর পার করে এসে কি আপনি বসের ভয়ে আটকে যাবেন? নিশ্চয়ই না। কি করবেন তাহলে? আপনার বসের দিক তাকান। উনি দুইটি হাত, দুইটি পা, একটি নাকওয়ালা প্রাণী তো, নাকি? এবার আবার নিজের দিকে তাকান। আপনারও কি দুইটি হাত, দুইটি পা, একটি নাক আছে কি না চেক করুন। সব যদি মিলে যায় তাহলে ভয় কেন? টেনশন কেন? আপনার বসও তো মানুষই। ভয়ের কিছু নেই। ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন, চুরি করতে তো আর যাচ্ছেন না? এসব ব্যাপার বসদের না জানানোই ভালো। মনে রাখবেন, বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগে, চাকরিতে বসের অনুমতি লাগে না। চাকরির সঙ্গে তো আর বিয়ে বসেননি। আপনার ক্যারিয়ার আপনার ব্যক্তিগত। ক্লাইন্টের মেইল এক ঘণ্টা পরে উত্তর দিবেন। মনে রাখবেন, যে নিজেই নিজেরটা বোঝে না, সে আরেকজনেরটা কি বুঝবে? তবে, এক ধরনের ব্যতিক্রম বস আছে, তাদের বলা হয় লিডার। তারা সর্বদা আপনাকে ক্যারিয়ারে ভালো নির্দেশনা দিবে। ফোন সাইলেন্ট রাখুন, এক ঘণ্টা অফিস থেকে বিচ্ছিন্ন। পরে এক ঘণ্টা কাজ করে পুষিয়ে দিয়েন। মনে রাখবেন, ‘বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়।’

৭। অনেকে ইন্টারভিউ দিতে এসেও অফিসের কর্মকাণ্ড নিয়ে মাথা গরম করে ফেলেন, ফোনের পর ফোন, ফোনের পর ফোন। কাজ করে যেন ফাটিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে টেনশন। দেখুন, প্রধানমন্ত্রী যখন ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠেন, তিনি কি ফোন নিয়ে ওঠেন? তিনি যদি মঞ্চে ফোন ছাড়া থাকতে পারেন, তাহলে আপনি কেন একটা ঘণ্টা ফোন ছাড়া থাকতে পারবেন না? আপনি নিশ্চয়ই তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নন? আপনি নিশ্চয়ই তার চেয়ে বেশি কাজ করেন না? মনে রাখবেন, দুনিয়ায় কেউ ব্যস্ত নয়। আপনি কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে আপনার ব্যস্ততা। অনেকে হয়তো বলবেন, রেস্পন্সিবিলিটি। এতোই যদি রেস্পন্সিবল হবেন তাহলে ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন কেন? ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন মানেই তো আপনি কোম্পানি পরিবর্তন করবেন, তাই না? এক ঘণ্টার জন্য নিজেকে এসব টেনশন থেকে দূরে রাখুন। প্রধানমন্ত্রী কথা বলার সময় শ্রোতাদের ফোকাস করে কথা বলেন। আপনি ইন্টারভিউর দিকে ফোকাস করুন।

৮। লিঙ্ক না থাকলে চাকরি হবে না, বদ্ধ এক ধারণা তরুণদের মধ্যে। কিন্তু কিছু নেগেটিভ রেফারেন্স টেনে টেনশন করে তো লাভ নেই। অনেক ভালো রেফারেন্সও আছে। আড়াই ফিট লোক চাকরি পেয়েছে, অন্ধ লোক চার্টার্ড একাউন্ট হয়েছে। এরকম কত উদাহরণ আছে। হাজার হাজার, লাখ লাখ। ঢাকায় দুই কোটি লোক বাস করে। অথচ এমন অনেক দিন আছে কোনো সড়ক দুর্ঘটনাই হয় না। পৃথিবীর আর কোথায় এটা আছে, বলুন। আপনি কি এখন দুর্ঘটনার ভয়ে বের হবেন না? তাহলে গন্তব্যে যাবেন কিভাবে? টেনশন একটি মানসিক সমস্যা। তাই সর্বদা পজিটিভ থাকুন। আপনাকে নেয়ার সম্ভাবনা আছে বলেই তো ডেকেছে। সুতরাং নেগেটিভ চিন্তা করবেন না।

৯। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে সাবলীল ভাবে বলুন, যে আপনি এটি জানেন না। রিক্রুইটার পরের প্রশ্নে চলে যাবে। ভুল উত্তর করে, সেটাকে আবার প্যাঁচাতে গেলে নিজেই শেষ পর্যন্ত প্যাঁচে পড়ে যাবেন। মিথ্যা বলবেন না ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে। মানুষ যখন মিথ্যা বলে, তখন ঘেমে যায়, টেনশন বাড়ে।

১০। ইন্টারভিউ দিতে যাওয়া চৌর্যবৃত্তি নয়। কাজেই ভয়ের কিছু নেই। বর্তমান কোম্পানির কোনো গোপন তথ্য ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে বলবেন না। এতে আপনাকে বিশ্বাসঘাতক ভাববে। ইন্টারভিউ দিতে একটু আগেই পৌঁছান। সময় হাতে নিয়ে রওনা দিন। গেট আপ চেক করুন। রিলেটেড কাগজপত্র ও কলম আগের দিনই গুছিয়ে নিন। টেনশনমুক্ত থাকতে পারবেন। হাসিমুখে কথা বলুন। আই কন্টাক্ট ঠিক রাখুন। শেষ মুহূর্তে কাজ করার বাজে অভ্যাস ত্যাগ করুন। ‘পরে’ বলে কোনো শব্দ নেই। ২৪ ঘণ্টাই ‘এখন’। যেটা করার সেটা এখনই করার অভ্যাস করুন।

মনে রাখবেন, ‘লজ্জা, ঘৃণা, ভয়, এ তিন থাকার নয়’ যারা স্কাইপির মাধ্যমে ইন্টারভিউ দেবেন, তারা তাদের স্কাইপি সংযোগ, মোডেমে টাকা আছে কি না সেগুলো আগে থেকে দেখে প্রিপারেশন নিন। এগুলো টেনশন দেয়। ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে অপেক্ষা করতে হয়, তখন টেনশন বাড়ে। তাই তখন কাজের বিবরণী ও আপনার নিজের কাজ সম্পর্কে ভাবুন। কেউ ইন্টারভিউ দিয়ে বের হলেই তাকে সবাই জিজ্ঞেস করি কি প্রশ্ন করল। সে যখন তার অভিজ্ঞতা বলে তখন টেনশন হয়। এগুলো জিজ্ঞেস করবেন না। এগুলোর চেয়ে বেশি আপনি জানেন। ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগের দিন পর্যাপ্ত ঘুমাবেন, সেভ করবেন। আপনি সেভ ছাড়া গেলেন, আরেকজন সেভ করে গেল। দেখেই আপনার কনফিডেন্ট কিন্তু হাঁটুতে নেমে আসবে। টেনশন শুরু হয়ে যাবে। রেস্ট নিবেন। ভালো পারফিউম লাগাবেন। নার্ভে চাপ পড়লে টয়লেট যাওয়ার প্রবনতা বাড়ে।

ভাববেন, আত্মীয়ের বাসায় এসেছেন। আত্মীয়ের বাসায় গেলেন, কি হয়? দরজা নাড়েন, ভিতরে যান। পরিচিত হন, তাই না? ইন্টারভিউ বোর্ডও তো একই রকম। তাহলে, চিন্তা কিসের? ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন এটা ভাবারই দরকার নেই। মনে করুন, বেড়াতে এসেছেন। একটা কোম্পানির অফিস দেখতে এসেছেন, তাদের সম্পর্কে জানবেন, নিজের কথা বলবেন। সিম্পল।

পরিশেষে, নিজেকে দক্ষভাবে উপস্থাপন করতে প্রাকটিসের বিকল্প নেই। সবার গতি এক নয়। সেখান থেকেই খরগোস আর কচ্ছপের গল্পের সূচনা। কিন্তু বিজয়ী হয়েছিল কচ্ছপ। তার লেগে থাকার পুরস্কার ছিল সেটা। আপনি না হয় একটু দুর্বল। দুই দিন বাড়তি প্রাকটিস করুন।

সেদিন একটি সিনেমা দেখছিলাম। সিনেমার ভিলেনের মন্ত্রী হওয়ার শখ। কিন্তু তার ভয় বাকি মন্ত্রী ও পার্টির লোকদের সামনে যখন সে শপথ নিবে, তখন যদি তার ভয় করে। এই ভয়ে সে মাঠেঘাটে, টয়লেটে সব জায়গায় গিয়েই শপথ পাঠ প্রাকটিস করত। নায়ক তুলো ধুনে দেয়ার পরেও সেই শপথবাক্য পাঠ তার চলতেই থাকে। তেমনি, যার যে জায়গায় দুর্বলতা আছে, তাদের উচিত দুর্বলতার কারণ খুঁজে বের করা। দুর্বলতার অনেক কারণ হতে পারে। হতে পারে উপহাসের ভয়, না জানার ভয়, ভুল বলে ধরা খাওয়ার ভয়। কিন্তু কোনো ভয়ই চিরস্থায়ী নয়। ভিলেনের মতো প্রাক্টিস করুন। নায়কের মতো বিজয়ী হয়ে আসুন। দুনিয়ায় ভয় বলে কিছু নেই। সবই দুর্বলদের বাহানা, গুজব।